তৃণমূল বনাম তৃণমূল বা বলা ভালো সাংসদ বনাম বিধায়ক। তৃণমূলের দুই পুরনো সৈনিকের মধ্যে লড়াই। দমদমের তৃণমূল বিধায়ক সৌগত রায়কে বেলাগাম আক্রমণ করলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। তাঁকে গিরগিটি, পাল্টিবাজ বলে তুলোধোনা করেন মদন।
গতকাল, বুধবার খোলা মঞ্চে কামারহাটি পুরসভার সমালোচনা করেছিলেন সৌগত রায়। সেখানকার পুরপ্রধানকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “গোপাল কামারহাটি পুরসভায় ঠিকমতো কাজ হচ্ছে না। মানুষ পরিষেবা পাচ্ছে না। পুরসভায় একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আছে তমাল দত্ত নামে। পুরসভা থেকে ময়লার গাড়ি বা অন্য কোনও সুবিধা চাওয়া হলে তমাল দত্তের অনুমতি নিতে হবে বলা হয়। এই তমাল দত্ত কোন এমন মহাপুরুষ? সে তো সাসপেন্ড হয়ে গিয়েছে”।
এদিন এলাকার কাউন্সিলরদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে সৌগত বলেন, “আমাদের মানুষ নির্বাচন করে এই পদে বসিয়েছে, মানুষের কাজ করার জন্য। তাই পুরপিতারা নিজেরা অন্যান্য আলোচনায় ব্যস্ত না থেকে পুর পরিষেবা মানুষ কী করে পেতে পারে, সেটা নিয়ে আলোচনা করুন”।
তাঁর এহেন মন্তব্যের পাল্টা দিয়েই মদন মিত্র বলেন, “সৌগত রায়কে এই কামারহাটির কর্মীরাই তিন বার জিতিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গোপালও ছিলেন। আজ গোপাল হয়ে গেল ভূত আর উনি হয়ে গেলেন রাজা। উনি তো সাংসদ। এমন যদি হয় যে কিছুদিন ওই সাংসদ পদ পাশে সরিয়ে রেখে পুরসভার চেয়ারম্যান করে দেওয়া যায়, দেখব উনি কেমন পুরসভা চালান”।
সৌগত রায়ের সংসদীয় এলাকা দমদমের লোকসভার মধ্যেই পড়ে কামারহাটি পুরসভা। তাই দমদমে সৌগতর জেতার জন্য কামারহাটিতে মদন মিত্র ও গোপালের উপর যে সৌগতকে ভরসা করতেই হয়, তা বলাই বাহুল্য। সেই কারণেই সৌগতকে এমন চাঁচাছোলা আক্রমণ মদনের।
সৌগত রায় কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে এসেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে এদিন মদন বলেন, “সৌগত রায়ের একটা গুণ রয়েছে। উনি হলেন পিসি সরকারের মতো যাদুকর। কখন পাল্টি খেতে হবে কখন গিরগিটির মতো রঙ বদলাতে হবে উনি ভালই জানেন। কে বলতে পারে এখন হয়তো তাঁর মনে অন্য কিছু ঘুরপাক খাচ্ছে”।
মদনের এহেন আক্রমণের কোনও পাল্টা প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি সৌগত রায়ের তরফে। তবে নিজেদের মধ্যে এমন দ্বন্দ্বকে মোটেই ভালো চোখে দেখছে না তৃণমূল। অন্যদিকে মদনও বলেন, “আমি এ সব কথা বলার জন্য দল আমার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতেই পারে। তা মাথা পেতে নেব। কিন্তু দলের নিচুতলার কর্মী সমর্থকদের অপমান সহ্য করব না। তাঁদের জন্যই সৌগত রায় সাংসদ হয়েছেন, এটা যেন উনি ভুলে না যান”।





