২০২০ প্রায় শেষের দিকে। ভয়াবহ একটা বছর গৃহবন্দি হয়েই প্রায় কাটতে চলেছে। তবে অন্যান্য সবকিছু থেকেও সবচেয়ে বেশি চিন্তায় রেখেছে যেটা সেটা হলো স্কুল কলেজ গুলি এখনও বন্ধ। এই বছরের মাধ্যমিক, বিভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষা কলেজের পরীক্ষা নিয়ে যে বিস্তর ঝামেলা হয়েছে তা রীতিমতো ভয় ধরাচ্ছে আগামী বছরের পরীক্ষার্থীদের মনে। ইতিমধ্যেই বাঙালি সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো মিটে গেছে। সামনে শুধু কালীপুজো, ভাইফোঁটা, জগদ্ধাত্রী পুজার মতো অন্যান্য আনুষঙ্গিক উৎসব গুলি।
অন্যান্য বছর এই অনুষ্ঠানগুলি মিটলেই শুরু হয় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষা। কিন্তু এবার তা কবে হবে বা আদৌ হবে কি না তা নিয়ে তুমুল অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের মনে। তবে এই চিন্তা শুধুমাত্র টেস্ট পরীক্ষাকে নিয়েই আবদ্ধ নয়। আগামী বছর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা সময়মতো হবে কিনা তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন রাজ্যের কয়েক লক্ষ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী (Madhyamik and higher secondary students)। পার্থক্য কি কমানো হবে না একই থাকবে? জটিল হচ্ছে প্রশ্ন!
প্রসঙ্গত উল্লেখ যোগ্য, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী থেকে অভিভাবক সকলেই বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ। অনলাইনে কিছু কিছু ক্লাস হলেও গ্রামেগঞ্জে ইন্টারনেট পরিষেবা দুর্বল এবং অনেকের স্মার্টফোন নেই, তাই অনেকেই সেই ক্লাস করতে পারেনি। তাই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যক্রম কমানো হবে কি? কমানো হলে কতটা কমানো হবে ?
দুই পরীক্ষার টেস্ট একেবারে দোরগোড়ায়। অভিভাবক ও পড়ুয়ারা চান, এ বার যদি টেস্ট ছাড়াই সকলকে আগামী বছর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে বসতে দেওয়া হয়, তা হলে শিক্ষা দফতর সেটা দ্রুত জানিয়ে দিক। শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানাচ্ছেন, সব চেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় ভুগছে গ্রামগঞ্জ বা মফস্সলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। কলকাতার স্কুলগুলিতে অনলাইন ক্লাস তুলনায় ভাল হলেও পরীক্ষা নিয়ে শহরের পড়ুয়া-অভিভাবকেরাও উদ্বিগ্ন।
সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha chattopadhyay) জানিয়েছিলেন, করোনা পরিস্থিতিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যক্রম কী হবে, রাজ্য সরকারের পাঠ্যক্রম কমিটি সেটা খতিয়ে দেখছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং টেস্ট কবে হবে, সেই বিষয়ে পর্যালোচনা করছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ।






