করোনা ভাইরাস, লকডাউন, কোয়ারেন্টিন এই নাম গুলোর সঙ্গে এই বছরই প্রথম মোলাকাত হয়েছে বিশ্ববাসীর। আর এই নামগুলি সাধারণ মানুষের জীবনে ভয়াবহতার রূপ ধারণ করেছে।বিশ্বজুড়ে কর্মহীন হয়েছেন প্রচুর মানুষ। স্তব্ধ হয়ে গেছে বিশ্ব অর্থনীতি। মন্দা দিকে দিকে। করোনা ভাইরাস এবং তার জেরে লকডাউন (Lockdown) কেউ চাকরি হারিয়েছেন, কারও উপার্জন তলানিতে এসে ঠেকেছে৷ অনেকেরই সঞ্চয় ও আবার শেষের পথে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যেখানে কোনও কাজই ছোট নয়। কারণ অর্থ উপার্জন করতেই হবে যেভাবেই হোক।
বাধ্য হয়ে বহু মানুষ বিকল্প পথে আয়ের পথ খুঁজে নিয়েছেন৷ সেরকমই এক কিশোরের সন্ধান মিলল মুম্বইয়ে (Mumbai)। লকডাউনের জেরে বইপত্র তুলে রোজগারের আশায় যাকে এখন চায়ের দোকান সামলাতে হচ্ছে। নতুন ব্যবসা থেকে আসা উপার্জনেই মা-বোনেদের নিয়ে সংসার চালাচ্ছে কিশোর। সংসার চালানোর পাশাপাশি নিজের বোনেদের অনলাইন ক্লাসের খরচ এ ভাবেই জোগাড় করছে মুম্বাইয়ের বাসিন্দা ১৪ বছরের শুভান৷ স্কুল খুললে তার পর নিজের পড়াশোনা শুরু করবে বলে জানিয়েছে এই বালক৷
লকডাউন শুরু পর থেকেই গোটা দেশে বন্ধ হয়ে যায় স্কুল সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান৷ পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে বিধিনিষেধ শিথিল করা হলেও দেশজুড়ে স্কুল এখনও বন্ধই রয়েছে৷ পড়াশোনা মূলত হচ্ছে অনলাইনে৷ যার খরচ বহন করা অনেকের পক্ষেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে৷
কিন্তু এই কঠিন পরিস্থিতিতেও হার মানেনি শুভান (Shubhan)। মাত্র ২ বছর বয়সে নিজের বাবাকে হারায় সে৷ মা ছাড়াও শুভানের বাড়িতে তার বোনেরা রয়েছে৷ বাবার মৃ্ত্যুর পর থেকেই শুভানের মায়ের উপার্জনেই সংসার চলত৷ তিনি একটি স্কুল বাসের অ্যাটেন্ড্যান্ট ছিলেন৷ কিন্তু লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়েন তিনি। তীব্র অনটনে পড়ে সংসার। কই পরোয়া নেহি! সংকটের পরিস্থিতিতে আপুদের সময়ের জন্য নিজের বই পত্রকে তুলে নিজের ঘাড়েই সংসারের দায়িত্ব তুলে নেয় এই কিশোর।






