অঙ্ক কী কঠিন! মাধ্যমিকের প্রশ্নপত্র কঠিন আসায় কেঁদে ভাসাল পরীক্ষার্থীরা, পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছল না গ্রাফ পেপারই, ইয়ার্কি চলছে, ক্ষোভ অভিভাবকদের

এক পড়ুয়ার জীবনে প্রথম বড় পরীক্ষা হলে মাধ্যমিক। আজই শেষ হয়েছে সেই মাধ্যমিক পরীক্ষা। গতকাল, বৃহস্পতিবার ছিল অঙ্ক পরীক্ষা। কিন্তু এই অঙ্ক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের যে অভিজ্ঞতা হল, তা তারা সারাজীবন মনে রাখবে। অঙ্ক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এতটাই কঠিন হয়েছে যে পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে কেঁদে ভাসাল পরীক্ষার্থীরা। কাঁদতে কাঁদতে অসুস্থও হয়ে পড়ল কয়েকজন। এমনকি, অনেক পরীক্ষাকেন্দ্রে তো অঙ্কের গ্রাফ পেপারই পৌঁছয় নি বলে অভিযোগ। একাধিক স্কুল থেকে এমন অভিযোগ এসেছে।

এমন অবস্থাই দেখা যায় নিউ ব্যারাকপুর মাসুন্দা বালিকা বিদ্যালয়ের সামনেও। গতকাল, বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক অঙ্ক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র খুব কঠিন হওয়ায় নিউ ব্যারাকপুর মাসুন্দা বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। স্কুলের সামনেই কান্নায় ভেঙে পড়ে পরীক্ষার্থীরা।

জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষাতেই অঙ্ক প্রশ্ন এতটাই কঠিন হয়েছে যে অনেকেই গোটা প্রশ্নের উত্তরই দিতে পারেনি। এই নিয়ে বেশ চাঞ্চল্য দেখা যায় নিউ বারাকপুর মাসুন্দা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে। পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে একটু দূরে থানার সামনেই চলছে এই কাণ্ড। রীতিমতো চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে পড়ুয়া ও তাদের অভিভাবকরাও।

আরও বড় অভিযোগ হল, মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষাতে অনেক স্কুলে দেওয়া হল না গ্রাফ পেপারই। এদিকে প্রশ্নপত্রে উল্লেখ করা রয়েছে যে পরীক্ষায় গ্রাফ পেপার দেওয়া হবে পরীক্ষায়। গ্রাফ পেপার না পেয়ে পরীক্ষা হলেই কান্নায় ভেঙে পড়ে পরীক্ষার্থীরা। মাধ্যমিক পরীক্ষায় যে এমন অবস্থা হতে পারে, তা ভাবাই যায় না। কিন্তু মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এই অভিযোগ মানতে নারাজ।

গতকাল, বৃহস্পতিবারই একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে পর্ষদের তরফে জানানো হয়, পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রে গ্রাফ এঁকে নিতে হবে বলে ডিআই ও ভেন্যু ইনচার্জকে আগেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্ষদ প্রশ্ন করে যে গ্রাফ পেপার যদি এতটাই আবশ্যক হয়, তাহলে প্রশ্নকর্তা তা জানাননি কেন? পর্ষদের কথায়, গ্রাফ পেপার না থাকলেও উত্তরপত্রের মূল্যায়নে কোনও প্রভাব পড়বে না। একইসঙ্গে ডেপুটি সেক্রেটারির কাছে রিপোর্টও চাওয়া হয়েছে পর্ষদের তরফে। কিন্তু প্রশ্ন হল, গ্রাফ পেপার যদি সরবরাহ না-ই করা হবে, তাহলে প্রশ্নপত্রে গ্রাফ পেপার দেওয়ার কথা উল্লেখ করা ছিল কেন?

এই ঘটনা প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদ দেবাশিস সরকার বলেন, “পরীক্ষার্থীকে গ্রাফ পেপার দেওয়াটা দায়িত্ব। তাই এভাবে একটা ইমেল করে দায় সারা যায় না। প্রত্যেকটা ভেন্যুতে এ খবর আলাদা করে থাকা দরকার। এখানে যে প্রস্তুতির অভাব রয়েছে তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে”। তাঁর কথায়, “পরীক্ষার্থীরা যদি খাতায় স্কেল দিয়ে দাগ টেনে এটা করতে যায়, তাহলে তাতে ‘পারফেকশন’ না আসাটা প্রত্যাশিত। তার প্রভাব যেন কোনও পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র মূল্যায়নে না পড়ে”।

অন্যদিকে, শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার বলেন, “শিক্ষা ব্যবস্থা কোথায় পৌঁছেছে, কোন চরম অবস্থা চলছে, তারই একটা প্রমাণ। গ্রাফের প্রশ্ন হল, কিন্তু গ্রাফ পেপার পৌঁছল না। এটা তো ভয়ঙ্কর অবহেলার ব্যাপার এবং উদাসীনতার ব্যাপার। শিক্ষা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ব্যগ্রতা থাকলে এটা হতে পারে না। শিক্ষা প্রশাসন কোন তলানিতে পৌঁছেছে, এটা তারই প্রমাণ”।

RELATED Articles