‘মোবাইল নিয়ে সময় না কাটানোই ইউএসপি’, সেলফ স্টাডি করেই মাধ্যমিকে তৃতীয় স্থান অধিকার নৈঋত রঞ্জন পালের

আজ মাধ্যমিকের ফল (Madhyamik result) প্রকাশ হয়েছে। গতকাল রাতেও মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এক অজানা টেনশন কাজ করছিল। বৃহস্পতিবার সকালে টিভির সামনে বসে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী শুনছিলেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সাংবাদিক বৈঠক। কল্পনা করতে পারেননি নিজের নাম শুনবেন টিভির পর্দায়। ছোট থেকে এই মেধাবী ছাত্র, মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল (Madhyamik result) যে এত আনন্দ নিয়ে আসবে তা ভাবতে পারেননি নৈঋতরঞ্জন পাল।‌

মাধ্যমিকের ফল (Madhyamik result) প্রকাশের পর জানা যায়, প্রত্যেক বছরের মতো এবারেও কলকাতা কে পিছনে ফেলে গিয়েছে জেলাগুলি। ১ থেকে ১০ এর মধ্যে মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে ৫৭ জন। এ বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে কোচবিহারের রামভোলা হাইস্কুলের চন্দ্রচূড় সেন। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৩। ৯৯ শতাংশ নম্বর পেয়েছে চন্দ্রচূড়। দ্বিতীয় হয়েছেন পুরুলিয়া জেলা স্কুলের সাম্যপ্রিয় গুরু। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৯২। ৯৮.৮৬ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। তৃতীয় হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট হাইস্কুলের উদয়ন প্রসাদ, বীরভূম থেকে পুস্পিতা বাঁসুরি, নিউ ইন্টিগ্রেটেড গভর্নমেন্ট স্কুল, ইলমবাজার। নৈঋত রঞ্জন পাল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়। তাঁদের প্রাপ্ত নম্বর ৬৯১।

নৈঋত রঞ্জনের ফলাফলে খুশি গোটা পরিবার। মাধ্যমিকে (Madhyamik result) তৃতীয় স্থান অধিকার করে কি বলছেন নৈঋত। তার সাফল্যের বিষয়ে নৈঋত বলেন, “এতটা সাফল্য পাবো আশা করিনি। তবে এই ফলাফলে ভাল লাগছে। দিনে সাড়ে পাঁচ থেকে ৬ ঘন্টা পড়তাম আমি। আর টেস্ট পরীক্ষার পরে অবশ্য পড়াশোনার সময়টা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। আর সেলফ স্টাডিই এই সাফল্য নিয়ে এসেছে। মিশনে মূলত শ্রেণিকক্ষের শিক্ষকদের কাছে শেখা ও নিজের পড়াশোনার উপরেই বেশি করে জোর দিয়েছিলাম। সেটাই এমন সাফল্য নিয়ে এল।”

পড়ার ফাঁকে সময় কাটত কেমন করে নৈঋতের। এর উত্তরে নৈঋত জানান, “পড়াশোনা ছাড়া অবসর সময়ে গানবাজনা এবং গল্পের বই পড়া চলত। তবে মোবাইল নিয়ে আমি সময় কাটাতাম না। কোনও অভ্যাস আমার নেই। মোবাইলের কোনও ব্যবহার মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে লাগেনি। বরং বিকেলে খেলাধূলা করতাম রোজই।”

এবছর মোট ৯ লক্ষ ১২ হাজার ৫৯৮ জন পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল। মোট ৭ লক্ষ ৬৫ হাজার ২৫২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করেছে (Madhyamik result)। এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম দশজনের মধ্যে রয়েছে মোট ৫৭ জন ছাত্রছাত্রী। এই মেধাতালিকায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে ৮ জন, দক্ষিণ দিনাজপুর, পূর্ব বর্ধমান এবং পূর্ব মেদিনীপুর থেকে ৭ জন, বাঁকুড়া, মালদা, পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে ৪ জন, বীরভূম থেকে ৩ জন, উত্তর ২৪ পরগনা, কোচবিহার, হুগলি থেকে ২ জন এবং নদিয়া, হাওড়া, পুরুলিয়া, কলকাতা থেকে ১ জন পড়ুয়া রয়েছে। পরীক্ষায় ৬০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৪১১ জন পড়ুয়া। এবারে মাধ্যমিকে পাশের (Madhyamik result) হার সবচেয়ে বেশি উত্তরবঙ্গের কালিম্পং জেলায়। পাশের হারে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। পাশের হারে তৃতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা।

আরও অন্যান্য খবর