স্কুলে হওয়ার কথা ছিল মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষা। কিন্তু স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েতের তরফে জানানো হয় যে স্কুলে দুয়ারে সরকারের ক্যাম্প বসবে। সেই কারণে বাতিল হয়ে গেল টেস্ট পরীক্ষা। আর পরীক্ষা বন্ধ করেই চলল সরকারের শিবির। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়া জেলার চাপড়া ব্লকের অন্তর্গত মহেশপুর পঞ্চায়েতের শিমুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে।
আজ, শনিবারের পরীক্ষা অন্যদিন নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয় স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে। এই ঘটনায় বেশ ক্ষুব্ধ স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে অভিভাবকরা। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবী, তাদের ইচ্ছা না থাকলেও বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাদের। এভাবে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
গত কয়েকদিন ধরেই উক্ত ওই স্কুলে মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষা চলছিল। আজ, শনিবারও ছিল পরীক্ষা। কিন্তু কিছুদিন আগেও গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে জানানো হয় যে স্কুলে দুয়ারে সরকারের শিবির হবে। এই কারণে পরীক্ষার দিন বদলে দেয়। শনিবারের পরীক্ষা অন্যদিন নেওয়া হবে বলে জানায় স্কুল। এই বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান বাধ্য হয়ে সরকারের শিবির করতে দেওয়া হয়েছে।
প্রধান শিক্ষকের কথায়, “সরকারের প্রকল্প রূপায়নে সহায়তা করতে বাধ্য বলেও জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক জোতির্ময় ঘোষ বলেছেন, “স্কুলের ভিতরে শিবির হচ্ছে। তাই পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। শিবিরের সঙ্গে পরীক্ষা চললে পড়ুয়াদের অসুবিধা হত। পঞ্চায়েত প্রধান আমাকে বলেছিলেন স্কুলের ভিতরে করলে সুবিধা হবে। স্কুলের কথা ভাবলে এটা করা উচিত নয়। কিন্তু আমরা সরকারি কর্মচারি। সরকারের স্বার্থ দেখতে গেলে করতে হবে। স্কুলের শিক্ষকরাও পরীক্ষা বাতিলে একটু ক্ষুব্ধ। আমাদের তো সবদিক বাঁচিয়ে চলতে হয়”।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব জানায় যে তারা এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। তবে এই নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে। তবে এই ঘটনায় শাসক দলকে আক্রমণ শানিয়েছে স্থানীয় বিজেপি। বিজেপি নেতা মহাদেব সরকার বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থাকে একে বারে ধ্বংস করে দিয়েছে। এতে নতুন করে বলার কিছু নেই। আগামী প্রজন্মের কাছে এই সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। সে জন্যই মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষা বন্ধ করে দুয়ারে সরকার করছে। এ রকম কাজ তৃণমূলের পক্ষেই সম্ভব”।





