তৃণমূল ছেড়ে সম্প্রতি এনসিপিআই দলে যোগ দেওয়া একাধিক সাংসদ কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা ভাবছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রের দাবি, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়-সহ দলত্যাগী সাংসদদের মধ্যে এ বিষয়ে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকও হয়েছে। সেখানে মহুয়ার সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। প্রথমে বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ভাঙন দেখা দেয়। এরপর লোকসভাতেও দলের একাংশের সাংসদ আলাদা অবস্থান নেন। পরে তাঁরা দিল্লিতে গিয়ে স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান। মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন, যা এনডিএ জোটের শরিক দল হিসেবে পরিচিত।
অন্যদিকে মহুয়া মৈত্র তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছেন এবং দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সরব হয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর একটি সমাজমাধ্যম পোস্টকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই পোস্টে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, কিছু সাংসদ আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে দল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর এই মন্তব্য দ্রুত রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি উদাহরণ টেনে মহুয়া নিজের পোস্টে কটাক্ষ করেছিলেন। সেখানে বিদ্রোহী সাংসদদের নিয়ে করা একটি মন্তব্য শেয়ার করে তিনি তৃণমূলের দলত্যাগীদের উদ্দেশে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, সাংসদদের দলবদলের পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের বিষয় থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ প্রকাশ করেননি।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরের সহকারীদের নামে বিজেপি সমর্থককে মা’রধ’রের অভিযোগ, গ্রেফতার হলেন দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়! অভিষেককে ঘিরে বিমানবন্দর সং’ঘর্ষের নেপথ্যে কি লুকিয়ে রয়েছে আরও বড় রহস্য?
এই মন্তব্যগুলিকে ঘিরেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সাংসদদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, সংবাদমাধ্যম ও সমাজমাধ্যমে তাঁদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় জানিয়েছেন, মহুয়ার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁরা আলোচনা করছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে মানহানির মামলা দায়েরের পথেও হাঁটতে পারেন বিদ্রোহী সাংসদেরা।






