করোনা পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের থেকে পাওয়া ক্ষতিপূরণে না নবীন পট্টনায়েকের, মমতা দিলেন ৪০ হাজার কোটির ফর্দ

বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির জেরে এমনিই দেশের বেহাল অবস্থা। কোথাও হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত বেড, কোথাও আবার নেই অক্সিজেন। এই মুহূর্তে যেটা সবথেকে বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে মহামারি মোকাবিলার জন্য, তা হল টিকা। কিন্তু সেই টিকারও পর্যাপ্ত বন্দোবস্ত নেই।

আর এই পরিস্থিতিতে আরও বেশি উদ্বেগ বাড়িয়েছে ঘূর্ণিঝড় যশ। যশের প্রভাবে ওড়িশার বেশ কিছু এলাকার ভীষণভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওড়িশার ধামড়াতেই আছড়ে পড়ে যশ। এর জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এই যশের প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতি হয় পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর ও সুন্দরবন অঞ্চলেও। একাধিক মানুষ হয়েছেন ঘরছাড়া। এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গতকাল ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের সঙ্গে আলোচনায় নরেন্দ্র মোদী ওড়িশার জন্য কেন্দ্রের তরফে ৫০০ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেন। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের জন্য মোদী ঘোষণা করেন ৪০০ কোটি টাকার প্যাকেজ।

https://twitter.com/Naveen_Odisha/status/1398324605190754307

তবে, কেন্দ্রের এই সাহায্য নিতে রাজী হননি নবীন পট্টনায়েক। তিনি বলেন, ‘দেশে করোনা সংক্রমণ শীর্ষে রয়েছে। তাই আমরা তাৎক্ষনিক আর্থিক সাহায্য চেয়ে কেন্দ্রের উপর আর্থিক বোঝা বাড়াতে চাইছি না। আমরা নিজস্ব শক্তিতেই এই সংকটের মোকাবিলা করব”। তাঁর এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন সকলেই।

https://twitter.com/Naveen_Odisha/status/1398182178421309444

কিন্তু অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গকে কেন কম টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে, এই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শুধু তাই-ই নয়, প্রধানমন্ত্রীকে তিনি ৪০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সাহায্যের একটি রিপোর্ট পেশ করেন। এর মধ্যে ২০০০০ কোটি টাকার যশের কারণে রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতির হিসেব ও বাকী ২০০০০ কোটির মধ্যে ১০০০০ কোটি রয়েছে দিঘা উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ও বাকী ১০০০০ কোটি রয়েছে সুন্দরবন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য।

এবার স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে যে, যেখানে করোনা পরিস্থিতির জেরে কেন্দ্র সরকারের উপর আগে থেকেই এক বিরাট চাপ রয়েছে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কী এত বড় আর্থিক সাহায্যের একটি রিপোর্ট দেওয়া উচিত হল? এর উপর ঘূর্ণিঝড় যশ যে রাজ্যে সবথেকে বেশি ক্ষতি করেছে, সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের সাহায্য ফিরিয়ে দিলেন, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই রিপোর্ট নিন্দামুখর হয়ে উঠেছে।

এছাড়াও, মুখ্যমন্ত্রীকে সাংবাদিক সম্মেলনে বলতে শোনা গিয়েছে যে রাজ্যের তরফে যা যা চাওয়া হয়েছে, তা কেন্দ্রের থেকে মিলবে না। তাহলে কী এই প্রসঙ্গ টেনে পরবর্তীকালে কেন্দ্রকে দোষ দেওয়ার রাস্তাটাও খোলা রাখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? কারণ গত বছর আমফানের সময় কেন্দ্রের দেওয়া ক্ষতিপূরণ নিয়ে অনেক প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলা হয়, কেন্দ্রের তরফে যথেষ্ট ক্ষতিপূরণ মেলেনি। আর এই কথাই বিধানসভা নির্বাচনেও হাতিয়ার করেন তিনি। তাহলে কী এবারও সেই তাস খেলতে চলেছেন মমতা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে? এ নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

RELATED Articles