’১০ পয়সা দিয়েও সাহায্য করে না কেন্দ্র’, কুম্ভমেলার তুলনা টেনে গঙ্গাসাগর নিয়ে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রকে কটাক্ষ মমতার

আগামী ৮ই জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে গঙ্গাসাগর মেলা। এর আগে সমস্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে ফের একবার কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ আনলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গঙ্গাসাগরকে জাতীয় ইস্যু করে তিনি অভিযোগ করেন যে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কেন্দ্র সরকার গঙ্গাসাগরকে জাতীয় মেলা ঘোষণা করেনি। উত্তরপ্রদেশের কুম্ভমেলার সব খরচ দেয় কেন্দ্র কিন্তু গঙ্গাসাগর মেলায় কোনও সাহায্য করে না কেন্দ্র, এমনই অভিযোগ আনলেন মমতা।

আজ, বুধবার গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে রাজ্য সরকারের খরচে তৈরি নানান প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। এদিন গঙ্গাসাগরের হেলিপ্যাড ময়দান থেকে তিনটি হেলিপ্যাড উদ্বোধন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই ভারচুয়ালি সুন্দরবন বিষয়ক দপ্তরের ৪০ মিটার দীর্ঘ কাকদ্বীপের কামারহাট সেতুর উদ্বোধন করেন তিনি। রাজ্যের পাঁচটি তীর্থক্ষেত্রকে একত্রিত করে তৈরি ‘বাংলার মন্দিরে’রও সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এরপরই বেশ খানিকটা আক্ষেপের সুরেই মমতা বলেন, “এখানে যা যা উন্নয়নের কাজ হচ্ছে, সবটাই হচ্ছে রাজ্য সরকারের টাকায়। কেন্দ্রকে বারবার অনুরোধ করেও এই মেলাকে জাতীয় মেলার মর্যাদা দেওয়া হয়নি। এখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়। সবরকম পরিকাঠামো আছে। কেন্দ্র চাইলেই এই মেলাকে জাতীয় মেলা ঘোষণা করতে পারে। কুম্ভ মেলার সব খরচ উত্তরপ্রদেশ সরকার কেন্দ্রের থেকে পায়। আমাদের সবটা নিজেদের করতে হয়”।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “গঙ্গাসাগর মেলা এই ধরনের একমাত্র মেলা যেটা জলপথ পেরিয়ে আসতে হয়। প্রতিবছর যাতায়াত মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি মানুষ নদী পার হন। অন্য সব মেলায় কেন্দ্রের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক আকাশপথে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে। আমরা এখানে আমাদের মতো ধাপে ধাপে করছি”।

আসলে, সাগরে যোগাযোগ ব্যবস্থা যাতে আরও উন্নত হয়, সেই জন্য মুড়িগঙ্গার উপর একটি সেতুর প্রয়োজন। সেই সেতু তৈরি হলে সাগরে আসার জন্য আর কাকদ্বীপ লটএইটে ভেসেলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। কলকাতা থেকে সরাসরি সড়কপথেই আসা যাবে কপিলমুনির আশ্রমে।

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, কেন্দ্র নাকি প্রতিশ্রুতি দিয়েও সেই সেতু তৈরির বিষয়ে কোনও সাহায্য করেনি। তিনি বলেন, “মুড়িগঙ্গায় সেতুর প্রয়োজন। বারবার কেন্দ্রের কাছে আবেদন করেও সাড়া মেলেনি। শেষপর্যন্ত আমরা বাধ্য হয়ে চেষ্টা করছি নিজেদের মতো করে করার। ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ। আমরা নিজেদের মতো একটা ডিপিআর তৈরি করেছি। তবে একটু সময় লাগবে। এত বড় যজ্ঞ। তার সামগ্রী জোগাড় করতে সময় তো লাগবেই। আমরা বারবার অনুরোধ করেছি ভারত সরকারকে কাজ হয়নি। আমরা আবারও অনুরোধ করব। নীতি আয়োগকেও অনুরোধ করব”।

RELATED Articles