রাজ্য বনাম কেন্দ্রের টানাপোড়েন যেন কমার নামই নিচ্ছে না। কখনও রাজনৈতিক বিতর্ক, তো কখনও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—বিভিন্ন ইস্যুতে মুখোমুখি তৃণমূল কংগ্রেস ও কেন্দ্র সরকার। এই আবহেই আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল ‘একশো দিনের কাজ’ প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্প বন্ধ থাকায় রাজ্যে বেকার যুবক-যুবতীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল। এবার সেই প্রকল্প ঘিরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বার্তা “এরিয়ার সমেত টাকা দিন”।
সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম জানান, কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘একশো দিনের কাজ’ (100 Days Work Scheme) বন্ধ করার অধিকার কেন্দ্রের নেই। অগস্ট মাস থেকেই রাজ্যে প্রকল্পটি ফের চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এই রায়ের পরে কার্যত স্বস্তি পেয়েছে রাজ্য সরকার। আর সেই সুযোগেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এক সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রকে নিশানা করে বলেন, “ওরা ১৫৫-১৫৬টি টিম পাঠিয়েছিল, সব কিছুর ক্ল্যারিফিকেশন আমরা দিয়েছি। এবার আর অপেক্ষা নয়, কাজ শুরু হোক, এরিয়ার সহ পুরো টাকা ফেরত দিন।”
সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “আমরা ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্প চালু করেছি, যাতে দরিদ্র মানুষদের হাতে কিছু কাজ ও টাকা তুলে দেওয়া যায়। কেন্দ্রীয় প্রকল্প বন্ধ থাকায় মানুষ সমস্যায় পড়ছিল। কিন্তু আমরা আদালতে যাইনি, একটা স্বশাসিত সংস্থা কোর্টে গিয়েছিল। আদালতের এই নির্দেশকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। এখন কেন্দ্রের উচিত প্রকল্প চালু করে টাকাও মিটিয়ে দেওয়া।”
প্রকল্প চালু হওয়া নিয়েই নয়, বকেয়া অর্থ নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর সুর ছিল কড়া। তিনি বলেন, “শুধু প্রকল্প চালু করলেই হবে না, যে টাকা আটকে রাখা হয়েছে, সেই টাকাও এরিয়ার সহ রাজ্যকে দিতে হবে।” কেন্দ্রীয় সরকারকে উদ্দেশ করে তাঁর সংযোজন, “ভারত সরকারের উচিত মানুষের পাশে থাকা, রাজনৈতিক কারণে সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া ঠিক নয়।”
আরও পড়ুনঃ WestBengal : “তৃণমূলের দুর্নীতির জন্যই বন্ধ ১০০ দিনের প্রকল্প”, আদালতের নির্দেশের মাঝেও কেন্দ্রের অবস্থানে অনড় বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য!
এই মুহূর্তে রাজ্যজুড়ে একটাই প্রশ্ন—আদালতের নির্দেশ মান্য করে কেন্দ্র কবে প্রকল্প চালু করবে? এবং বকেয়া টাকা মেটানো নিয়েও আদৌ কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না? মুখ্যমন্ত্রী যদিও জানিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে রিভিউ পিটিশনে যাওয়া হবে। কিন্তু এত কিছুর পরেও, মানুষের স্বার্থে রাজ্য যে তার অবস্থানে অনড়, তা আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন গোটা রাজ্যের নজর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে।





