পেটের টানে কাজ খুঁজতে হয়, এবং সেই টাকাতেই পেট ভরতে হয়—এমন লক্ষ লক্ষ মানুষ পশ্চিমবঙ্গে নির্ভর করেন ১০০ দিনের কাজের (MGNREGA) উপর। কিন্তু সেই প্রকল্পই বন্ধ হয়ে রয়েছে ৩.৫ বছর ধরে। কোনও দুর্নীতি থাকলে তদন্ত হোক, কিন্তু প্রকল্প বন্ধ কেন? এই প্রশ্নই ঘুরেফিরে উঠছে বারবার। অবশেষে সেই প্রশ্নের উত্তরই যেন দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু আদতে এতে কী সমাধান হবে জটিলতার?
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তদন্ত থাকলেও কোনও সরকারি প্রকল্পকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে রাখা যায় না। ফলে আগামী ১ অগাস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজ ফের শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। হাইকোর্টের এই রায় যে তৃণমূল কংগ্রেসের বহুদিনের দাবি ও আন্দোলনের জয়, তা স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, কেন্দ্র ‘বৈষম্যমূলক’ মনোভাব নিয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে রাজ্যের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৭০০ কোটি টাকা আটকে রেখেছে। তাঁর অভিযোগ, “গরিব মানুষ কাজ করেও টাকা পাননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের রাজ্যের তহবিল থেকে ৫৯ লক্ষ জব কার্ড হোল্ডারকে ৩৭০০ কোটি টাকা দিয়েছেন।” গুজরাট ও উত্তরপ্রদেশে দুর্নীতি থাকা সত্ত্বেও টাকা যাচ্ছে, অথচ পশ্চিমবঙ্গের প্রকল্প বন্ধ—এই দ্বিমুখী নীতিরও তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি।
তবে বিরোধীরা একমত নয়। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর মতে, দুর্নীতির কারণেই একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প বন্ধ রয়েছে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের দুর্দশা বেড়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয়ের দ্বন্দ্বকে দায়ী করে বলেন, “দু’পক্ষের লড়াইয়ে গরিবের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। এটা চলতে পারে না।”
আরও পড়ুনঃ ‘বাবা ঠোঁটকাটা, তিনি আমার জীবনের আদর্শ নন!’ অভিনেতা জয়জিৎ ব্যানার্জির সম্পর্কে বিস্ফোরক ছেলে যশোজিৎ ব্যানার্জি
রাজ্য বিজেপি স্পষ্ট করেছে, আদালতের রায়ে তৃণমূলের দাবিকে মান্যতা দেওয়া হয়নি। মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “কেন্দ্র প্রকল্প চালু করতে চায়, কিন্তু তৃণমূলের দুর্নীতিই প্রধান বাধা।” সিবিআই তদন্তের দাবিও তাঁরা তুলেছেন। এখন প্রশ্ন, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে প্রকল্প চালু হলেও, অর্থ কবে ছাড় হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যাচ্ছে না। কেন্দ্র যদি টাকা না দেয়, তাহলে হাইকোর্টের নির্দেশেও আদৌ জট কাটবে কি? সেই দিকেই তাকিয়ে বাংলার খেটে খাওয়া মানুষ।





