Mamata Banerjee। : পাঁচ দিনের ধর্না শেষ করেই আনন্দ বোসের সঙ্গে সাক্ষাতে মমতা বন্দোপাধ্যায়!

রাজনীতির ময়দানে কখনও কখনও একটি মঞ্চই হয়ে ওঠে বড় প্রতীকের জায়গা। ধর্মতলার ব্যস্ত চত্বরও গত কয়েক দিনে ঠিক সেই ভূমিকাই নিয়েছিল। মাইক, ব্যানার, নেতা-কর্মীদের ভিড়—সব মিলিয়ে সেখানে যেন তৈরি হয়েছিল এক আলাদা রাজনৈতিক আবহ। পাঁচ দিন ধরে চলা সেই অবস্থান ঘিরে তৈরি হয়েছিল নানা জল্পনা, রাজনৈতিক বার্তা আর ভবিষ্যতের ইঙ্গিত।

এই অবস্থানের মধ্যেই বারবার উঠে এসেছে অতীতের আন্দোলনের স্মৃতি। সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রামের মতো ঘটনাগুলোর উল্লেখ করে অনেকে বলছিলেন, বাংলার রাজনীতিতে বড় লড়াইয়ের শুরু অনেক সময়ই এমন প্রতিবাদ মঞ্চ থেকেই হয়। ফলে প্রশ্ন উঠছিল—এই আন্দোলন কি শুধুই সাময়িক প্রতিবাদ, নাকি এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে আরও বড় রাজনৈতিক বার্তা?

অবশেষে টানা পাঁচ দিনের অবস্থান কর্মসূচির ইতি টানলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলায় চলা এই ধর্না তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি নেন উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবের পর সকলের সম্মতিতেই আন্দোলন আপাতত স্থগিত করার কথা জানান তিনি। তাঁর কথায়, বিচারের দরজা এখনও খোলা রয়েছে এবং সেই লড়াই চলবে অন্য পথে।

ধর্না মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফিরে যান সিঙ্গুর আন্দোলনের দিনগুলিতে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে তিনি আরও দীর্ঘ সময় আন্দোলনে থাকতে পারেন। সেই সময়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, সিঙ্গুরে যিনি চাষিদের জমি নেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, বর্তমানে তাকেই নাকি নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। যদিও কোনও নাম উচ্চারণ করেননি, তবু তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ SFI : ‘ইন্টেলেকচুয়ালি নিম্নমানের’ বলে অপমান! তরুণী কমরেডের বিস্ফো*রক অভিযোগে চাপে বাম শিবির, সম্মেলনের আগে অস্বস্তিতে ছাত্র রাজনীতি!

ধর্মতলার মতো ব্যস্ত এলাকায় টানা কয়েক দিন মাইক ও কর্মসূচির জন্য সাধারণ মানুষ অসুবিধায় পড়েছেন বলেও স্বীকার করেন তিনি। আশপাশের দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই কয়েক দিনে তাঁদের ব্যস্ত করতে হয়েছে, এমনকি শব্দে অনেকের কান ঝালাপালা হয়েছে। তবু তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের স্বার্থেই এই প্রতিবাদ জরুরি ছিল।

ধর্না তুলে নেওয়ার পরই তিনি জানান, সেখান থেকে সরাসরি সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাবেন প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে। বর্তমানে আলিপুরের ‘সৌজন্য’ ভবনে অবস্থান করছেন তিনি। এই সাক্ষাৎকে ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, যেমন সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের আন্দোলনের পথচলা ধর্মতলা থেকেই শুরু হয়েছিল, তেমনই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইও এখান থেকেই নতুন দিশা পেতে পারে।

RELATED Articles