নির্বাচনকে ঘিরে আইনি জটিলতা নতুন কিছু নয়। ভোটার তালিকা, নির্বাচন প্রক্রিয়া বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—এসব নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনাও মাঝেমধ্যেই সামনে আসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যে ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ সামনে এসেছে, তা নিয়ে আদালতের অন্দরেও তৈরি হয়েছে এক ধরনের অস্বস্তির পরিবেশ। বিশেষ করে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ায় বিষয়টি নিয়ে বিচারপতিদের ধৈর্যও যে ক্রমশ কমছে, সেই ইঙ্গিত মিলেছে সাম্প্রতিক শুনানিতে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত মূলত রাজ্য প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার অভাব থেকেই। ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা কিছু প্রশ্নের নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্ট আগেই নির্দেশ দিয়েছিল যে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন নিম্ন আদালতের বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। সেই নির্দেশ মেনে উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি সব পক্ষকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেন। পাশাপাশি বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু করে নির্বাচন কমিশন। এখান থেকেই নতুন বিতর্কের সূচনা হয়।
শুনানির সময় আদালতে হাজির হয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বাল অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বলেই তারা কমিশনের মত অনুযায়ী কাজ করছেন বা ভবিষ্যতেও করতে পারেন। এই বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্টতই বিরক্তি প্রকাশ করেন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন—নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ যদি কমিশন না দেয়, তাহলে আর কে দেবে? সেই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, পশ্চিমবঙ্গ সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়েই আদালতে শুনানি করতে হয়, তাই একই ধরনের অভিযোগ বারবার তুলে আদালতকে বিরক্ত না করার পরামর্শও দেন।
Mamata Banerjee। : পাঁচ দিনের ধর্না শেষ করেই আনন্দ বোসের সঙ্গে সাক্ষাতে মমতা বন্দোপাধ্যায়!
এরপর আবার এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি তোলেন আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। তাঁর দাবি ছিল, কিছু নির্বাচকের নথি গ্রহণ করা হয়নি এবং তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তবে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে জানান, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উপর আদালতের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তারা সঠিকভাবেই দায়িত্ব পালন করছেন। বৈধ ভোটারদের নাম প্রয়োজন হলে পরবর্তী সম্পূরক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও আদালত জানায়।
শুনানির শেষ পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যকে জানিয়ে দেয়, যদি কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে তাহলে একটি ট্রাইবুনাল গঠন করা যেতে পারে। সেই ট্রাইবুনালে উচ্চ আদালতের বিচারক বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা সদস্য হিসেবে থাকতে পারেন এবং বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেখানে তা জানানো যাবে। যদিও আইনি পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই ট্রাইবুনাল মূল সমস্যার সমাধান না করে কেবল একটি বিকল্প পথ দেখানোর মতোই। ফলে নির্বাচন ঘিরে এই আইনি বিতর্ক আপাতত থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার