গতকাল ২৩শে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik Exam)। তা চলবে ৪ মার্চ পর্যন্ত। তারপর মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হবে উচ্চমাধ্যমিক (Higher Secondary)। এবার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বললেন, “কোনও পরীক্ষা যদি খারাপ হয়, তা আমাদের নলেজে এলে আমরা সেরকম দেখে নেব”।
গতকাল, বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের সভা থেকে পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক, মাদ্রাসা, হাই-মাদ্রাসা, সিবিএসই, আইসিএসই পরীক্ষার্থীদের জন্য আমার অনেক অনেক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন রইল। মন খারাপ করার কোনও কারণ নেই। সব পরীক্ষা যে ভাল হবে তার কোনও মানে নেই। কোনও পরীক্ষা যদি খারাপ হয়, কঠিন হয় তা আমাদের নলেজে আসলে আমরা সেরকম দেখে নেব। আমি বাচ্চাদের অলওয়েজ ভালবাসি। আমি চাই তারা সসম্মানে এগিয়ে যাক”।
মুখ্যমন্ত্রীর এহেন মন্তব্যের নিন্দা করেছেন তবে বাম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তাঁর কটাক্ষ, “মুখ্যমন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্য পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে লাটে তুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট”।
গতকাল, বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক পরীক্ষার শুরুর দিনই রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে নানান দুর্ঘটনার খবর উঠে এসেছে। এদিন পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথেই হাতির হামলায় মৃত্যু হয় জলপাইগুড়ির মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর। বাবার সামনেই মেধাবী ওই ছাত্রকে শুঁড়ে করে তুলে পিষে মারে ওই দাঁতাল।
এই ঘটনায় গোটা জেলায় শোরগোল পড়ে যায়। পরীক্ষার্থীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশে ওই ছাত্রের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন জলপাইগুড়ির শাসক মৌমিতা গোদারা বসু, শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদী, রাজগঞ্জ বিধায়ক খগেশ্বর রায়। শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবও গিয়েছিলেন মৃত ওই ছাত্রের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে।
এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এর থেকে মর্মান্তিক পরিণতি আর কিছু হতে পারে না। অথচ এগুলো আমাদের হাতেও নেই। কখন যে জঙ্গল থেকে টুক করে একটা হাতি বেরিয়ে আসবে এরা যখন দল বেধে আসে, তখন এটা হয় না। বনদফতরের লোকেরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যখনই একা হয়ে যায়, এসব করে বেড়ায়”। এর পাশাপাশি তিনি এও জানান যে তিনি শিক্ষা দফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রয়োজনে পরীক্ষার সময় পরীক্ষার্থীদের জন্য বাসের ব্যবস্থা করতে হবে।





