পুর নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করতে গিয়েই রেশন বণ্টনে দুর্নীতির দিকটি সামনে আসে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। এই ঘটনায় চালকলের মালিক বাকিবুর রহমানকে গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে উঠে আসে রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম। আজ, বৃহস্পতিবার রেশন দুর্নীতি কাণ্ডেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বাড়ি হানা দেয় ইডি। সেই নিয়ে বেজায় চটলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কী বললেন মমতা?
এদিন দুপুরে কালীঘাটের নিজের বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রীর বাড়ি ইডি হানা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি। এবার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। পুজো সবে শেষ হয়েছে। জেলায় জেলায় আজ কার্নিভাল রয়েছে। সবাই বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। তার মধ্যেই মন্ত্রীদের বাড়িতে হানা দিতে নেমে পড়েছে (পড়ুন কেন্দ্রীয় এজেন্সি)। একটা লোক কারও নাম বললেই, ওমনি তাঁর বাড়িতে চলে যাচ্ছে। একবারও তদন্ত করে দেখছে না, সেটা সত্যি না মিথ্যে”।
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিন্তিত মমতা। বললেন, “বালুর সুগার রয়েছে। ওঁর শরীর খুব খারাপ। ও যদি মরে যায়, বিজেপি-ইডির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে হবে”।
এই প্রসঙ্গেই এদিন মমতা টেনে আনেন প্রয়াত তৃণমূল সাংসদ সুলতান আহমেদের কথাও। মমতা বলেন, “সুলতান আহমেদের ঠিক এভাবেই মৃত্যু হয়েছিল। এজেন্সির নোটিশ পাওয়ার পরই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সুলতান। একই কারণে প্রসুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীরও মৃত্যু হয়েছে। ওরা বাইরে এটা বলতে পারেনি”।
প্রসঙ্গত, এদিন সকালেই আবার রাজস্থানের কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের ছেলেকে নোটিশ পাঠিয়েছে ইডী। তাঁকে শুক্রবার দিল্লি বা জয়পুরে ইডির দফতরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকে দেগে মমতা বলেন, “বেছে বেছে সব বিরোধীদের ঘরে এজেন্সি পাঠিয়ে দিচ্ছে। আমার প্রশ্ন একটাই বিজেপির ডাকাতদের বাড়িতে তল্লাশি হয়েছে? একটাই বিজেপি মন্ত্রীর বাড়ি তল্লাশি হয়েছে? একটাই বিজেপির চোরের বাড়ি তল্লাশি হয়েছে? সংবাদপত্রের টুঁটি চেপে ধরা হচ্ছে। এদের কোনও নেতা বিদেশে গেলে দেখায় সারা দেশের লোককে ভালবাসে। সবকা সাথ সবকা বিনাশ। আর দেশে আসলে সবকা সত্যানাশ”।





