দশভুজা নন এই দুর্গা, একাদশীর দিন বোধন, রাতেই বিসর্জন, একদিনের পুজো দেখতে ভিড় জমায় লক্ষাধিক মানুষ

দুর্গাপুজো শেষ। চারিদিকে এখন ফাঁকা মণ্ডপ। তবে উমার বিদায়ের পরও ফের উমার আরাধনায় মাতল এক গ্রাম। একাদশীতে ভাণ্ডানী দেবীর আরাধনায় জলপাইগুড়ির তিস্তাপারের গ্রামবাসীরা। এক রাতেরি পুজো। দিনে পুজো হয়ে, রাতেই বিদায় নেন মা। কিন্তু এই একদিনের পুজোতেই মেতে ওঠে গোটা গ্রাম।

এই পুজো হয় জলপাইগুড়ি ময়নাগুড়ির বার্নিশ গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাণ্ডানী গ্রামে। সেই গ্রামেই পূজিত হন মা ভাণ্ডানী। বহু মানুষ যোগ দেন এই পুজোতে। গ্রামের লোকজন মা দুর্গাকেই ভাণ্ডানী রূপে পুজো করেন। ভাণ্ডানী দেখতে বাড়ির মেয়ের মতোই। সাধারনভাবেই হয় এই পুজো।

এই পুজো নিয়ে রয়েছে অনেক গল্প

কথিত রয়েছে, দেবী দুর্গা তার সন্তানদের নিয়ে বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ি থেকে কৈলাসে ফিরছিলেন। বৈকুন্ঠপুরের ঘন জঙ্গলে ঘেরা পথ ধরে ফেরার সময় এক সাধারণ নারীর রূপ নেয় উমা। জঙ্গলের মধ্যে সন্তানদের নিয়ে পথ হারায় সে। সেই সময় এক রাখাল গরু চড়িয়ে ওই পথ দিয়েই ফিরছিল। গভীর জঙ্গলে একা মেয়েকে দেখতে পেয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যায় সে। রাতে রাখালের বাড়িতে থাকার বন্দোবস্তও হয়।

মাঝরাতে নিজের আসল রূপ ধারণ করে ওই মেয়ে। তা দেখে অবাক হয়ে যায় রাখাল। দেবী জানান, তিনি রাখালের সেবায় তুষ্ট। কোনও বর চাইতে বলেন দেবী। তখন রাখাল কেঁদে ফেলেন। জানান, তিস্তাপারের জমি খুবই অনুর্বর। তাতে চাষবাস করা হয়। সেই জমি যাতে শস্য শ্যামলা হয়, সেই বরই রাখাল চায় দেবীর কাছে। সেই থেকেই ভাণ্ডানী বা বনদুর্গার পুজো শুরু করে রাখালরা। প্রায় ৫০০ বছরের বেশি সময় ধরে হচ্ছে এই পুজো। দশমীর পর একাদশীতে একদিনের জন্য হয় এই পুজো।

এই ভাণ্ডানী দেবী কিন্তু দশভুজা নন। তাঁর দুটো হাত। আর তিনি সিংহে নন, বরং বাঘে অধিষ্ঠান করেন। সঙ্গে থাকে তাঁর চার ছেলেমেয়ে, লক্ষ্মী গণেশ, সরস্বতী, কার্তিক। কোনও অসুর থাকে না। পুজোর সঙ্গেই এইদিন মধ্যরাত পর্যন্ত চলে মেলা। এই পুজো দেখতে ঢল নামে লক্ষাধিক মানুষের।

পূজো কমিটির সহ সভাপতি দীনেশ রায় বলেন, “৫০০ বছর হয়ে গেল এই মেলার। উত্তরবঙ্গ তো বনজঙ্গলে ঘেরা ছিল একটা সময়। দশমীর দিন কিছু রাখাল মায়ের দেখা পায়। তারাই মায়ের কাছে আবেদন জানিয়েছিল, কৈলাস যাওয়ার আগে একদিনের জন্য এখানে পুজো নিয়ে যাও। সেই থেকে পুজো শুরু”।

RELATED Articles