ঝাড়গ্রামে হারানো ভোটব্যাঙ্ক উদ্ধারে মরিয়া মমতার কাতর আর্জি, “সব তো দিয়েছি, এবার আপনারা কিছু দিন”

আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনে জিততে ঠিক কতটা মরিয়া বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা ফের একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল। একটা সময় জঙ্গলমহল হাসছে বলে নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুলেছিলেন মমতা অথচ সেই জঙ্গলমহলে গিয়ে এখন কাতর স্বরে তাঁকে অনুনয় করতে হচ্ছে, “সব তো দিয়েছি, এবার আপনারা কিছু‌ দিন।”

জঙ্গলমহল তাঁর হাসি কেড়ে নিয়ে যে মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে তা আজ ঝাড়গ্রাম এর প্রশাসনিক বৈঠকে গিয়ে স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জঙ্গলমহল এখন ঝাড়গ্রাম জেলার অন্তর্ভুক্ত আর অন্যদিকে পঞ্চায়েত ভোটের সময় তৃণমূল যথেষ্ট ধাক্কা খেয়েছিল এই এলাকা থেকে। এরপরে এই এলাকায় লোকসভা ভোটে ঘুরে দাঁড়ানো তো দূরের কথা বরং একেবারেই ভোটব্যাঙ্ক ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল তৃণমূলের। ধীরে ধীরে এই এলাকা নিজেদের কব্জায় নিয়ে এসেছে বিজেপি। আর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এখন সেটাই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মমতার।

উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরে মমতা সোজা জঙ্গলমহল এলাকায় দিয়েছেন যাতে সাধারণ মানুষের তৃণমূলের উপর আস্থা পারে এবং তারা বিধানসভা নির্বাচনে মমতার ঝুলি ভরিয়ে দেয়। মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুরের সভায় মমতা যে নিজের ভোটব্যাঙ্ক ফিরে পেতে মরিয়া তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। তবে বুধবার ঝাড়গ্রামে যেন বিষয়টা দৃষ্টিকটু ভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠল।

তিনি বলেই ফেললেন, ” আপনাদের কাছে আমার একটা অনুরোধ, আপনারা নির্বাচনের সময় নানারকম সংগঠন তৈরি করেন। সে করুন, আপনারা তৈরি করতেই পারেন, সেটা আপনাদের ফ্রিডম। কিন্তু আপনারা কোন কাজ বলেছেন আর আমরা তা করিনি এটা হয়নি।আপনাদের কাছে আমার একটাই অনুরোধ করব যে আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকুন। মা-মাটি-মানুষের সরকারের সঙ্গে থাকুন।” গলায় স্পষ্ট ঝরে পড়ছে কাতর আর্জি।

তবে এখানেও হাথরাসের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “আমি সব মানুষকে মানুষের চোখে দেখি। আজ দলিতদের উপর সবথেকে বেশি অত্যাচার হচ্ছে। আদিবাসী মানুষ, গরিব মানুষের উপরে। আপনাদের যা প্রয়োজন হবে আমার কাছে চাইবেন কিন্তু কখনো ভুল বুঝবেন না। আমার কাছে যতক্ষণ টাকা আছে আমি করে দেব।” আবার টাকার অভাব এর জন্য তিনি নরেন্দ্র মোদীকেই দোষারোপ করেছেন। আরও দাবি জানালে এরপরেই বেরোয় মমতার কাতর আর্তি, “পরে দেব। সব তো দিয়েছি, যা চেয়েছেন, সব দিয়েছি, এবার আপনারা কিছু দিন।”

RELATED Articles

Leave a Comment