ঘটনার আড়াই দিন পর বগটুই গ্রামে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গিয়ে মৃতদের পরিজনদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এদিন বগটুই গ্রামে মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃতদের পরিজনরা।
প্রথম থেকে গ্রামের বাড়িগুলিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তৃণমূল ব্লক সভাপতি আনারুল হোসেনের দিকেই আঙুল তুলেছিলেন স্থানীয়রা। তাঁর নির্দেশেই আগুন লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। আজ, বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে সেই আনারুল হোসেনকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রীও।
এদিন মমতা বলেন, আনারুল যদি ওই পরিবারগুলির আর্জি শুনে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া ব্যবস্থা নিত, তাহলে হয়ত এই ঘটনা ঘটত না। এর পাশাপাশি এই ঘটনায় পুলিশের কাজ নিয়েও বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এসডিপিও ও আইসির গাফিলতি ছিল বলেও উল্লেখ করেন মমতা।
এছাড়াও, এদিন আক্রান্তদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেন মমতা। পরিবারগুলির হাতে ৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন তিনি। এছাড়াও, যাঁদের ঘর পুড়ে গিয়েছে তাঁদের ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রয়োজনে আরও ১ লক্ষ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি পরিজনদের চাকরি দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন মমতা।
প্রসঙ্গত, এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বগটুই গ্রামের সফরকে ঘিরে বেশ শোরগোল পড়ে যায়। এদিন বগটুই গ্রামের মোড়ে মুখ্যমন্ত্রীর আসার জন্য তৈরি হয় তোরণ। আর সেই তোরণে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীর হাসিমুখ। যা ঘিরে কটাক্ষ শানায় বিরোধীরা। এই বিষয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “মহিলা, শিশুরা রাজ্যে জীবন্ত দগ্ধ। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের জন্য সাজছে শহর। মানুষকে ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা দেওয়ার থেকে এটাই গুরুত্বপূর্ণ”।





