এ রাজ্যেই সম্ভব! মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বগটুই মোড়ে এক রাতেই সেজে উঠল তোরণ, অথচ পুড়ে যাওয়া লাশ নিয়ে এখনও চুপ রাজ্য সরকার-স্থানীয়রা

গত সোমবার রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে যে হত্যালীলা ঘটে গিয়েছে তা নিয়ে এখন গোটা বাংলা উত্তপ্ত। গতকালই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং বগটুই গ্রামে গিয়েছিলেন। তবে তাদের গন্তব্যস্থলে যেতে বাধা দেওয়া হয় পুলিশের তরফে।

আজ, বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেখানে যাওয়ার কথা। আর মুখ্যমন্ত্রীর যাওয়ার কারণে রামপুরহাট স্টেশন থেকে বগটুই গ্রামের মোড় পর্যন্ত যেভাবে সেজে উঠল, তা দেখে বোঝা মুশকিল যে আর মাত্র কয়েক গজ দূরেই সারি দিয়ে একের পর এক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। সেই পোড়া লাশের গন্ধ বাতাসে এখনও যেন ভাসছে।

বগটুই মোড়ে যেন সাজো সাজো রব লেগেছে। মুখ্যমন্ত্রী আজ দুপুরে সেখানে পৌঁছবেন। তাঁকে স্বাগত জানাতে গ্রামের মুখেই তৈরি হল বিরাট তোরণ। তাতে আবার মুখ্যমন্ত্রীর হাসিমুখে ছবি দেওয়া। দেখে বোঝা বেশ শক্ত, আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বগটুই গ্রামে ভোটের জন্য নিজের কোনও সভা করতে যাচ্ছেন নাকি গণহত্যাকাণ্ডের জায়গা পরিদর্শনে যাচ্ছেন।

তোরণের ডানদিকের থামে ‘দিদি’র সঙ্গে রামপুরহাটের বিধায়ক তথা বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। আর বাঁদিকের থামে ‘দিদি’র ছবির নীচে রয়েছে বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ছবি যার উপর মমতার অগাধ আস্থা আর কী! শুধু কী তাই, গোটা রাস্তার দু’দিকে চোখ পড়লে দেখা যায় চকচকে সিল্কের কাপড়ের তৃণমূলে পতাকা।

সবই ঠিক আছে, কিন্তু প্রশ্ন তো উঠছে অনেকই। মুখ্যমন্ত্রী বগটুই গ্রামে যাওয়ার জন্য একরাতের মধ্যে সেখানে সেজে উঠল তোরণ। সেজে উঠল গোটা এলাকা। অথচ সেই পুড়ে যাওয়া লাশগুলো, যাদের তো কোনও দোষ ছিল না, সেই মহিলা, নিষ্পাপ শিশুগুলো, যারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন তাদের গ্রাস করল, তাদের ন্যায় বিচার মুখ্যমন্ত্রী মহাশয়া দিতে পারবেন তো? রাজ্যবাসীর মনে এখন এই প্রশ্নই উঠছে। কারণ এই ঘটনা নিয়ে আশ্চর্যজনকভাবে স্থানীয়রাও মুখ বুজেই রয়েছেন।

এই ঘটনার পর শাসকদলের তরফে আগুন লাগার যে যুক্তি একের পর এক খাড়া করা হয়েছে, কারোর মতে টিভি ফেটে আগুন, কারোর মতে ‘স্থানীয় গ্রাম্য বিবাদ মাত্র’, সেই সমস্ত মন্তব্যের কথা মাথায় রেখে শাসকদলের ন্যায় নীতির উপর রাজ্যবাসীর সন্দেহ জাগাই স্বাভাবিক কী না!। তবে দেখা আজ মুখ্যমন্ত্রী সে গ্রামে গিয়ে কী মীমাংসা করতে পারেন।

RELATED Articles