বিকেল থেকেই স্নায়ুযুদ্ধ চলছে জুনিয়র চিকিৎসক ও নবান্নের মধ্যে। দু’পক্ষের বৈঠক হবে কী হবে না, তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কাটছে সময়। জুনিয়র চিকিৎসকরা নিজেদের দাবীতে অনড় যে গোটা বৈঠকের লাইভ স্ট্রিমিং করতে হবে। অন্যদিকে, নবান্নের সাফ কথা লাইভ স্ট্রিমিং করা যাবে না। এমন আবহে শেষমেশ ময়দানে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দেড় ঘণ্টার বেশি সময় চিকিৎসকদের জন্য অপেক্ষা করার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “পৌনে ৫টা থেকে প্রায় ৭ টা বাজে। দু’ঘণ্টা অপেক্ষা করছিলাম যে আমাদের চিকিৎসক ভাই বোনেদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। আমরাই চিঠি দিয়েছিলাম। সেই কারণেই বৈঠক ডাকা হয়েছিলাম। কিন্তু ২ ঘণ্টা পরেও দেখলাম তাঁরা আসছেন না। কোনো শর্ত নিয়ে নয়। খোলা মনে। কথা বললে সমস্যার সমাধান হ্য়॥ গত দুদিন ধরে আমরা অপেক্ষা করেছিলাম। আমাদের কাজ ক্ষমা করে দেওয়া। আমরা ক্ষমা করে দিয়েছি। আজও তাঁরা চিঠি পাঠান। সিএস জানান, ওপেন মিটিং”।
লাইভ স্ট্রিমিং কেন করা যাবে না, তার ব্যাখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা তিনটি ক্যামেরা রেখেছিলাম ভিডিও করার জন্য। আমরা পরে শেয়ার করে দিতাম। সুপ্রিম কোর্ট লাইভ দেখাতে পারে। আমরা পারি না। এখন এই কেস কোর্টের আওতায় রয়েছে। ফলে তাঁর গণ্ডির মধ্যেই থাকতে হবে। বিচারধীন কেস এটা। সবটা টেলিকাস্ট করলে আমাদের দায়বদ্ধতা থাকবে না? আমরা এমন কিছু করতে চাইনি। একবার আমরা লাইভ সম্প্রচার করেছিলাম। ওরা ঠিকই বলছেন। কিন্তু তথন কেসটা সুপ্রিম কোর্টের আওতায় ছিল না। সিবিআই তদন্ত করছিল না”।
এদিন নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকের শেষের দিকে মমতা বলেন, “এরা (জুনিয়র চিকিৎসকরা) এসেছিল বিচার পেতে নয়। ওরা চেয়ার চায়। মানুষের স্বার্থে আমি পদত্যাগ করতে রাজি আছি। মুখ্যমন্ত্রীর পদ চাই না। আমি চাই তিলোত্তমা বিচার পাক। সাধারণ মানুষ বিচার পাক”।
আরও পড়ুনঃ হাইকোর্টের রায়ের পরেও হচ্ছে না নিয়োগ! ঘুমাচ্ছে প্রশাসন! বিক্ষোভের মিছিল উচ্চ প্রাথমিকের চাকরিপ্রার্থীদের
জুনিয়র চিকিৎসকরা গত মঙ্গলবার থেকে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, “কিছু পেশার মানুষের সমাজের প্রতি আলাদা করে দায়বদ্ধতা রয়েছে। ডাক্তারি পেশা তেমনই। আমি তিন বার চেষ্টা করলাম। সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে। তারপরও মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। যে কোনও মৃত্যু মর্মান্তিক। কিন্তু এত মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এর থেকে লজ্জার কী হতে পারে”?





