আর জি করের ঘটনায় উত্তাল সারাবাংলা। গণ আন্দোলনের ঢেউ প্রতিনিয়ত আছড়ে পড়ছে কলকাতার রাজপথ থেকে বাংলার আনাচে কানাচে। একংশ যখন দোষীদের শাস্তি চেয়ে রাস্তায় নামছে সেখানে বিরোধীরা সবকিছুর জন্য আঙুল তুলেছে সরকারের দিকেই। তারই জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নৃশংস ঘটনার দোষীদের ফাঁসি বা প্রাণদণ্ডের দাবিতে সীলমোহর দিয়ে বিরোধীদের চুপ করিয়ে দিলেন তিনি। মমতা বলেন, “আমরাও চাই দোষীদের ফাঁসি হোক। কিন্তু আমি সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ করছি”।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন ধর্ষন মানবতার বিরুদ্ধে অভিশাপ। তিনি নির্যাতিতার প্রতি শোক জ্ঞাপন করে এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের গঠনের জন্য জোর দেওয়ার কথা জানান। বিজেপির উদ্দেশ্যে তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, “আপনাদের কাছ থেকে জ্ঞান নেব না। আন্দোলন প্রসঙ্গে তাঁর মত, প্রতিবাদ করার গণতান্ত্রিক অধিকার সকলের আছে”।
মমতার কথায় এই বীর মেয়েদের অধিকার রক্ষার লড়াই। কামদুনির ঘটনার কথা টেনে তিনি বলেন যে সেই ঘটনাতেও দোষীদের ফাঁসি চাওয়া হয়েছিল। ধর্ষণের ঘটনা যেখানেই ঘটুক না কেন তা জাতীয় লজ্জা। তিনি দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য সমাজ সংস্কারের ডাক দিয়েছেন। মমতার কথায়, “আসুন আমরা সকলে মিলে সমাজ সংস্কার করি। এই বাংলা থেকেই একসময় সতীদাহ-বাল্যবিবাহ রোধে সমাজ সংস্কার করেছিলেন রামমোহন রায় ও বিদ্যাসাগর”।
কলকাতা শহরকে সবচেয়ে নিরাপদ আখ্যা দিয়ে এরপরেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে কথার মাধ্যমে বিদ্ধস্ত করে দেন মমতা। কেন্দ্রীয় সরকারের মহিলা নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিলকিস বানো থেকে হাথরস, উন্নাও, বদলাপুর, ঝাঁসি প্রভৃতি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে বিজেপির অস্বস্তি বাড়িয়ে দেন তিনি। সম্প্রতি ভিনেশ ফোগটের কথা তুলে তিনি বলেন যে ব্রিজভূষণ সিংহের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কারণে কোনরকম চক্রান্ত হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার।
রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক মঙ্গলবার বিধানসভায় অপরাজিতা মহিলা ও শিশু (পশ্চিমবঙ্গ ফৌজদারি আইন সংশোধন) বিলটি পেশ করেন। এইজন্যই দুদিনের বিশেষ অধিবেশনের ডাক দেওয়া হয়েছিল । বিরোধীদের সমর্থন থাকায় বিলটি পাশ হয়ে যায়। বিল সমন্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “শাস্তি আরও কঠোরতর করতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারাগুলিকে সংশোধন করা হয়েছে”।





