আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে অনন্য নজির গড়লেন চিকিৎসক সমাজ, অবস্থান বিক্ষোভের শেষে ঝাঁটা হাতে রাস্তা পরিষ্কার করলেন নিজেরাই

রাস্তা দখল করে প্রতিবাদ তাতে কী। সাধারণ মানুষের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার দায়িত্বও তো তাদের উপরেই বর্তায়। ফলে অবস্থান বিক্ষোভের জেরে রাস্তা যা নোংরা হয়েছিল, তা নিজেরাই ঝাঁট দিয়ে সাফ করলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। এ যেন এক অনন্য দৃশ্যের সাক্ষী থাকল কলকাতা।  

অনেক সময়ই নানান রাজনৈতিক জমায়েতের শেষে দেখা যায় প্রচুর মানুষের এক জায়গায় থাকার ফলে রাস্তাঘাটের অবস্থা হয়ে পড়ে বেহাল। চারিদিকে ইতিউতি ছড়িয়ে নানান জিনিসপত্র। রাস্তাঘাট নোংরা হয়ে পড়ে থাকে। খাবারের প্যাকেট, জলের বোতল নানান জিনিসে একাকার থাকে রাস্তা। কিন্তু জুনিয়র চিকিৎসকদের অবস্থান বিক্ষোভের পর তারা সেই ধারণাকেই ভুল প্রমাণ করে দিলেন।

তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার ন্যায় বিচারের দাবী প্রথম দিন থেকেই শুরু হয়েছে চিকিৎসকদের আন্দোলন। কর্মবিরতি চলছে জুনিয়র চিকিৎসকদের। এই আন্দোলনে তারা কোনওপ্রকার রাজনৈতিক রঙ লাগতে দেন নি। গতকাল, সোমবার সন্ধ্যে থেকে লালবাজারের কাছে অবস্থান বিক্ষোভ করছিলেন তারা। সিপি-র পদত্যাগের দাবী করেছিলেন।

আজ, মঙ্গলবার চিকিৎসকদের প্রতিনিধি দল দেখা করেন কলকাতা পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে। তাঁর থেকে সদুত্তর না পেয়ে অসন্তুষ্ট তারা। অবস্থান বিক্ষোভ তুলে নিলেও কর্মবিরতি জারি থাকবে, সাফ জানান চিকিৎসকরা। এই ২৫ ঘণ্টা অবস্থান বিক্ষোভের ফলে রাস্তাঘাট অপরিষ্কার হয়ে থাকারই কথা। কিন্তু তেমনটা তো হল না। দেখা গেল এক অন্য দৃশ্য।

জুনিয়র চিকিৎসকদের দেখা গেল, অবস্থান বিক্ষোভের শেষে হাতে ঝাঁটা নিয়ে রাস্তা পরিষ্কারের কাজে লেগে পড়লেন তারা। রাস্তাঘাটে এক রাতে যে জলের বোতল বা খাবারের প্যাকেট জমা হয়েছিল, তা নিজেরাই ঝাঁট দিয়ে তুলে সাফ করে দিলেন। যে হাত স্টেথোস্কোপ ধরে, সেই হাতই যে ঝাঁটা হাতে রাস্তা সাফও করতে পারে, তা অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ করলেন চিকিৎসকরা।  

আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে অনন্য নজির গড়লেন চিকিৎসক সমাজ, অবস্থান বিক্ষোভের শেষে ঝাঁটা হাতে রাস্তা পরিষ্কার করলেন নিজেরাই

আরও পড়ুনঃ ‘কলকাতা সবচেয়ে নিরাপদ শহর, ধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে অভিশাপ’, আর জি করের নির্যাতিতার প্রতি শোক জ্ঞাপন করে দাবী মমতার

চিকিৎসকদের কথায়, “এটাও তো আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। টানা ২৪-২৫ ঘণ্টা ধরে এই রাস্তায় আমরা বসেছি, প্রয়োজন বিশেষে শুকনো খাবার খেয়েছি। তার প্যাকেট, ফাঁকা জলের বোতল তো এভাবে রাস্তায় ফেলে দিয়ে গেলে রাস্তা নোংরা হবে। তাই যতটা সম্ভব আমরা নিজেরাই পরিষ্কার করে দিচ্ছি”। তাদের এই দায়িত্ববোধ ও কর্তব্য দেখে আপ্লুত সাধারণ মানুষ।

আরও অন্যান্য খবর