‘অভিষেক বিয়ে করেছে, কিছু একটা করে তো বউ-বাচ্চাকে খাওয়াতে হবে, ওর সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে’, কেন এমন আক্রমণ শানালেন মমতা?

‘ভাইপো’ অভিষেকের হয়ে ফের একবার কেন্দ্র সরকারকে তোপ দাগলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিলিগুড়িতে উন্নয়ন বোর্ড ও সম্প্রদায়ের সদস্যের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মমতা। সেখানেই বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়ান তিনি। কটাক্ষ করেন ইডি-সিবিআইকেও। অভিষেকের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা নিয়ে তোপ দাগেন মমতা।

এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে মমতা বলেন, “আমার উপর বিজেপির রাগ বেশি। কারণ আমি ভয় পাই না”। এরপরই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি নিয়ে তোপ দাগেন মমতা।

কী বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

ইডি অভিষেকের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে এদিন মমতা বলেন, “আপনারা জানেন না। অভিষেক একজন যুবক। বিয়ে করেছে, ২টো বাচ্চা আছে, ওকে তো কিছু একটা করতে হবে। নইলে খাওয়াবে কী করে? কিছু তো একটা করতে হবে। ঘরে বসে থাকলে তো আর ভাত জুটবে না। ওর একটা ব্যবসা ছিল। সব সম্পত্তি অ্যাটাচ করে দিয়েছে। আমি কিছু বলিনি, কারণ আমাদের লড়াই অন্যায়ের বিরুদ্ধে। আমাদের যা আছে তুমি নিয়ে নেও। কিন্তু গণতান্ত্রিক অধিকার ছিনিয়ে নিও না”।

কেন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে সম্পত্তি?

সাম্প্রতিককালে বারবার শিরোনামে উঠে এসেছে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নাম। এই সংস্থার দুর্নীতির অভিযোগে আপাতত জেলবন্দি সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। এই লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস নিয়ে তদন্ত করতে গিয়েই নাম জড়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই সংস্থার সিইও অভিষেক। দুর্নীতির সঙ্গে এই সংস্থার নাম জড়ানোয় এই মামলা নিয়ে অনেক তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। এই ঘটনায় তলবও করা হয়েছিল অভিষেককে।

গত জানুয়ারি মাসে এই লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের ৭.৫ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। সূত্রের খবর, যে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, এর মধ্যে কালীঘাট রোডের দুটি বহুতল রয়েছে। এই দুটির মধ্যে একটি বাড়ি কিনেছিলেন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র।  

মমতার এই মন্তব্যের পর বিজেপি এই প্রসঙ্গে বলে, “ব্যবসা করলে নিজের নামে কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই বলে কেন দাবি করলেন অভিষেক। কী এমন ব্যবসা যে পরের নামে অ্যাকাউন্ট খুলে করতে হয়। আর তাতে কোটি কোটি টাকা রাতারাতি চলে আসে? ইডি অবৈধভাবে অভিষেকের সম্পত্তি অ্যাটাচ করে থাকলে কেন আদালতে যাচ্ছেন না তিনি? কেন মমতা বলছেন, ‘আমরা কিছু বলিনি’? কে বারণ করেছে ওনাকে বলতে? তদন্ত হচ্ছে আদালতের নির্দেশে ও আদালতের নজরদারিতে। সেখানে যাবতীয় সম্পত্তি কেনার আয়ের উৎসের নথি জমা দিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করুন অভিষেক। কেউ বারণ করেনি তো”।

RELATED Articles