তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেনের (Jakir Hossain) বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার করেন আয়কর দফতরের আধিকারিকরা। সেই ঘটনা নিয়ে এবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর কথায় জাকির হোসেন তৃণমূল করেন বলেই এমন আয়কর হানা হয়েছে তাঁর বাড়িতে।
আজ সোমবার মুর্শিদাবাদে একটি সভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভা থেকেই তিনি বলেন, “জাকির একটা বিড়ি শিল্পপতি। তার যে ২০ হাজার বিড়ি শ্রমিক আছে জানোনা? কটা বিড়ি শ্রমিকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে? কটা গ্রামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে? জাকির তৃণমূল করে বলে এই অবস্থা। বেছে বেছে তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে এজেন্সি পাঠাচ্ছে। জাকিরকে প্রাণে মারার চেষ্টা করেছিল। জাকিরকে নিয়ে ষড়যন্ত্র। দোষ করলে জাকিরকে শাস্তি দাও”।
এদিন নাম না করেই শুভেন্দু অধিকারীকে খোঁচা দেন মমতা। বলেন, “আমার দুর্ভাগ্য কোনও একজনকে এখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সে বেছে বেছে তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে এজেন্সি পাঠাচ্ছে”।
প্রসঙ্গত, গত ১২ই জানুয়ারি জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকির হোসেনের বাড়ি ও বিড়ির কারখানায় হানা দেয় আয়কর দফতর। বাড়ি, অফিস, কারখানায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় ১১ কোটি টাকা। তা নিয়ে বেশ শোরগোল পড়ে যায়। যদিও বিধায়কের দাবী, ওই টাকা আয় বহির্ভূত নয়। এই ঘটনা নিয়ে এবার বিধায়কের পাশে দাঁড়ালেন মমতা নিজে।
এদিন সাকেত গোখেলের গ্রেফতারি নিয়েও সুর সপ্তমে চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “বঙ্গভবন থেকে গ্রেফতার করেছে। রাজস্থান থেকে গ্রেফতার করেছে। কয়েকদিন আগে শুনলাম আবার বঙ্গভবন থেকে গ্রেফতার করেছে। বঙ্গভবন রাজ্যের সম্পত্তি। বিনা অনুমতিতে কেউ গেলে আইনত ব্যবস্থা নিতে হবে। আইন আইনের পথে চলবে। না জিজ্ঞেস করে অনুমতি নিয়ে বাড়িতে ঢুকতে চাইতে পারো। কিন্তু অনুমতি না দেওয়ার পর বেআইনিভাবে দিল্লি ও গুজরাট পুলিশ বঙ্গভবনে ঢুকেছে। সব সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে গিয়েছে। গণতন্ত্রে যারা বুলডোজার চালায় তাদের বলি বুলডোজারের পরিবর্তে বুলডোজার নয়। তাদের ক্লোজার হবে”।
এখানেই শেষ নয়। এদিন বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে ফের সরব হন মমতা। তিনি বলেন, “দিল্লির লাড্ডুরা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারদের কী আটকানো যায়? মাঝে মধ্যে খাঁচায় ধরে রেখে ট্রিটমেন্ট করা যায়। কিন্তু রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার যদি বিপ্লব করে সেসব কুৎসা, অপপ্রচার, দাঙ্গার চক্রান্তকে নস্যাৎ করে দেবে”। পঞ্চায়েত নির্বাচন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই শাসক-বিরোধী সংঘর্ষের ঝাঁঝ ততই বাড়ছে।





