মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আগামী মাসে রাজ্যের তৃতীয় মেয়াদের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে চলেছেন। রাজ্যের অর্থনৈতিক চিত্র এবং উন্নয়নের দিক থেকে এই বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবান্ন সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বাজেটে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির জন্য এক বড় ঘোষণা আসতে পারে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার নতুন নিয়োগের কথা ঘোষণা করা হতে পারে, যা বিশেষ করে বেকার যুবকদের জন্য একটি বড় দিশা হতে পারে।
জানানো হয়েছে যে, রাজ্যে শিল্পায়নের পথ খুললেও শ্রমনিবিড় কাজের ক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি হয়নি। তবুও, সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়। সরকারের আর্থিক সামর্থ্য কিছুটা সীমিত হলেও, বাজেটে নতুন নিয়োগের বিষয়ে বড় ঘোষণা আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই নিয়োগের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক এবং স্থায়ী কর্মীদের জন্য বেশ কিছু পদ খোলা হবে বিভিন্ন দফতরে। সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হতে পারে শিশু এবং পুষ্টি সংক্রান্ত কেন্দ্রগুলিতে। সরকারি প্রকল্প আইসিডিএস এবং অঙ্গনওয়ারী প্রকল্পের অধীনে নিয়োগ হবে অঙ্গনওয়ারী কর্মী, সহকারী এবং সুপারভাইজার পদে। বিশেষ করে মহিলা কর্মীদের জন্য এই পদগুলিতে সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা শিশুদের স্বাস্থ্য এবং পুষ্টির উন্নয়নে সহায়ক হবে।
এছাড়া, স্বাস্থ্যখাতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ হতে পারে। রাজ্য সরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে নার্সিং সিস্টার, হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট, ফার্মাসিস্ট ও মেডিক্যাল অফিসার পদে নিয়োগের কথা ভাবা হচ্ছে। যদিও এই নিয়োগ চুক্তিভিত্তিক হতে পারে, তবে কর্মীরা সরকারি চাকরির সুযোগ পাবেন, যা অনেকের জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ মাঘের শেষে হঠাৎ ঠান্ডার ছোঁয়া! তবে কি ফের জাঁকিয়ে বসবে শীত? কী জানাল আবহাওয়া দপ্তর?
সবশেষে, রাজ্যের নিরাপত্তা বাহিনী এবং শিক্ষা খাতে নতুন নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। হোমগার্ড, সিভিক ভলেন্টিয়ার এবং ভিলেজ পুলিশের পদে নিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি, সরকারি স্কুলে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক, শিক্ষা সহায়ক এবং রিসোর্স পারসন নিয়োগ করা হতে পারে। সবচেয়ে বড় চমক, রাজ্য সরকার গ্রামোন্নয়ন, পর্যটন, সংস্কৃতি, জল সরবরাহ এবং আইন দফতরে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করবে। রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পে কর্মী নিয়োগ হতে পারে, যা সরকারি চাকরি প্রার্থীদের জন্য একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি করবে। এই সব ঘোষণার পরেও, বাস্তবে কতটা কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, তা দেখা এখন বাকি।





