২১শের ভোট ঐতিহাসিক হতে চলেছে। এমনটাই মত দেশীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। মমতা বনাম বিজেপির লড়াইয়ে কে শেষ হাসি হাসবে তা সময় বলবে। কিন্তু রণনীতি কি হতে চলেছে? বাংলায় সংখ্যালঘুরাই কি বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে? তুষ্টিকরণের রাজনীতি কি এখনও চলছে বাংলায়?
বিগত ৪-৫ বছরের অক্লান্ত চেষ্টায় নিজেদেরকে বাংলার প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তুলে ধরেছে বিজেপি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনই বাংলার রাজনীতিতে বড় এক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। বিজেপি যেহেতু হিন্দুত্ববাদের রাজনীতি করে তাই তাঁদের বিপরীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুসলিম তুষ্টিকরণের রাজনীতি ক্রমেই জোরদার হয়েছে। আর যা নিয়ে সরগরম হয়েছে বঙ্গ রাজনীতি।
মমতাকে আক্রমণের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে মমতার এই মুসলিম প্রীতিকেই!
প্রসঙ্গত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই একবার ইফতার পার্টিতে যাওয়া নিয়ে সরব বিরোধীদের উদ্দেশ্যে নিজেই বলেছিলেন, “আমি মুসলমানদের সন্তুষ্ট করি, আপনাদের তাই মনে হয়? মনে হলে হবে। আমি সেখানে একশ বার যাব। যে গরু দুধ দেয় তার লাথি খেতেও রাজি।”
বিরোধীদের মত এই মন্তব্য থেকেই ষ্পষ্ট যে তিনি মুসলিমদের সন্তুষ্ট করে নিজের আখের গোছাতে চান। আর তাই বাংলায় দশমীর বিসর্জন বন্ধ করে মহরম পালন করা হয়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মনে রাখতে হবে, ২০১৯ সালে তৃণমূলের ৪৩.৩ শতাংশ ভোট ভাগের মধ্যে মুসলমানদের ২৩.৩ শতাংশ ভোট রয়েছে। বর্তমানে সংখ্যালঘুরা বাংলার জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ (প্রায় ৩০ কোটি)। যদিও দু’বছরে পরিস্থিতিতে কিছুটা বদল এসেছে। মমতার মুসলিম ভোট ব্যাঙ্কেও ফাটল এসেছে। সম্প্রতি সুফী সাধক হজরত আবু বকর সিদ্দিকীর চতুর্থ প্রজন্মের বংশধর পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী আলেমী আদিবাসী, দলিত ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর আটটি সামাজিক সংগঠনকে নিয়ে বিধানসভা ভোটে লড়াই করার ডাক দিয়েছে।
যে ভোট ব্যাঙ্ক এতদিন নিশ্চয়তা দিয়ে এসেছিল, সেই ভোট ব্যাঙ্কই এখন অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে তৃণমূল সুপ্রিমোকে। হাওড়া, দক্ষিণ এবং উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলাগুলিতে মুসলমানদের ক্ষমতা অনেকটাই। দক্ষিণবঙ্গে এই চারটি জেলাতে রাজ্যের মুসলমানদের ২৫ শতাংশ এবং রাজ্যের ২৯৪ টি বিধানসভা আসনের প্রায় ৩৩ শতাংশ বা ৯৮টি আসন রয়েছে। ২০১৯ সালে এই জেলা থেকে ১৪ টি সংসদীয় আসন তৃণমূল জিতেছিল। সম্প্রতি ফুরফুরা শরীফের ত্বহা সিদ্দিকী মমতার অবস্থান নিয়েও হতবাক। তাঁদের বক্তব্য একটাই এতদিন তৃণমূলের সকলেই তুষ্টির প্রস্তাব দিয়ে আসলেও ভোটের বিনিময়ে সেই প্রস্তাব কখনই কার্যকর হয়নি।
আর এসবের মধ্যেই এবার বাংলা নতুন আতঙ্ক আসাউদ্দিন ওয়াইসি। নিজের দল নিয়ে বাংলার ভোট কাটতে আসছেন তিনি। বাংলার মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক যে এবার কোন দলের দিকে ঝুঁকবে তা বোঝা বেশ মুশকিল। আর তাই একুশের নির্বাচন যে সবাইকে অবাক করতে চলেছে তা বলা বাহুল্য।





