‘আমাকে জেলে পুরে দিলেও জেল ফুটো করে বেরিয়ে আসব’, শান্তিপুরের সভা থেকে ঝাঁঝালো গলায় বললেন মমতা

আজ, বৃহস্পতিবার পালপাড়ায় পদযাত্রা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর সেখান থেকে সড়কপথে শান্তিপুর যান তিনি। সেখানে প্রশাসনিক সভা করেন। সেই সভা থেকেই ফের একবার বিজেপিকে তুলোধোনা করলেন মমতা।

আজ, বৃহস্পতিবার শান্তিপুরে প্রশাসনিক সভার পাশাপাশি দলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সামনেই লোকসভা নির্বাচন। কেমন চলছে নির্বাচনের প্রস্তুতি, সেই খোঁজখবর নিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়েও এদিনের বৈঠকে বার্তা দিতে পারেন তিনি। তবে এদিনের শান্তিপুরের সভা থেকে তিনি নিজের নানান প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী।   

কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

এদিন সভা থেকে মমতা বলেন, “কৃষ্ণনগর রানাঘাট, নবদ্বীপ, জলঙ্গী, দেবীপুর যাওয়ার রাস্তা এখন কী হয়েছে বলুন। পূর্ব বর্ধমানের কালনা থেকে শান্তিপুর পর্যন্ত ব্রিজ তৈরি করে দিচ্ছি। নদিয়ায় কন্যাশ্রী, হরিচাঁদ, গুরুচাঁদ তৈরি করেছি। কল্যাণীতে এডুকেশন হাব, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ টেকনোলজি বিশ্ববিদ্য়ালয় করেছি। জল স্বপ্ন প্রকল্পে ১১ লক্ষ ৮৬ হাজার বাড়িতে জল পৌঁছে দেওয়া হবে। আর এক বছরের মধ্যে। চার পাঁচ মাসের মধ্যে ৯ লক্ষ ২৯ হাজার বাড়িতে জল পৌঁছে গিয়েছে। আর ৫-৬ মাসে বাকিদের পৌঁছে যাবে”।

মমতা এও আর্জি জানিয়ে বলেন, “যাঁরা হাতে মূর্তি তৈরি করেন, হাতের কাজ করেন, যাঁরা সিল্ক তৈরি করে, তাঁত, ডোকরা বানান, অন্তত সবাইকে উৎপাদনের সব সামগ্রী বিশ্ব বাংলা, বাংলার শাড়ি, তন্তুজ, মঞ্জুসায় জায়গা করে দিন”।

নানান দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে শাসক দলের একাধিক নেতা। অনেক তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীই বর্তমানে জেলবন্দি। তবে তৃণমূলের দাবী রাজনৈতিক স্বার্থেই কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে কাজে লাগাচ্ছে কেন্দ্র। এই বিষয়ে তোপ দেগে এদিন ফের মমতা বললেন, “নির্বাচনে জেতার জন্য সবাইকে জেলে পুরে দিচ্ছেন। আমাদের সবাই চোর, আর আপনারা সাধু? বাংলা এগিয়ে যাবে। ভারতবর্ষের সবাইকে ভয় দেখিয়ে জেলে পুরে দিলেও কিচ্ছু হবে না। আমাকেও জেলে পুরে দিলে, জেল ফুটো করে বেরিয়ে আসব”।

রাজ্যের তাঁতশিল্পীদের প্রসঙ্গও এদিন টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “আমি ক্ষমতায় এসে দেখলাম, মাত্র ৬ জন মসলিন তাঁতি বেঁচে রয়েছেন। সেই ৬ জনকে আমরা ৬০ জনের ট্রেনিং দিলাম। তারপর মসলিন তীর্থ তৈরি করলাম। আর এখন সেই মসলিন তীর্থ আপনাদের সবার নাম কেড়েছে। আমি গর্বিত নদিয়ার তাঁতশিল্পীদের জন্য। আমি যত শাড়ি পরি সব নদিয়ার। আমি নিজের হাতে এঁকে ডিজাইন করে দিই। কিন্তু যে তাঁতিরা আমাকে শাড়িগুলো বুনে দেয়। কখনও ধনেখালি, কখনও নদিয়া। এর কোনও তুলনা আছে, তুলনা নেই”।

আরও অন্যান্য খবর