বাবার অপূর্ণ ইচ্ছাপূরণ! অভাবকে সঙ্গী করেই আজ ইস্টবেঙ্গল মহিলা ফুটবল টিমের ক্যাপ্টেন, কঠোর সেই যাত্রাপথের কাহিনী দাদাকে জানালেন তৃষা

মাঠে ২২ গজেই হোক বা টেলিভিশনের পর্দাতেই হোক, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাদাগিরির সঙ্গে বাংলা ও বাঙালি বহুল পরিচিত। মাঠে যেমন প্রতিপক্ষকে ‘ লে ছক্কা’ বলে ক্লিন বোল্ড করেছেন তিনি, তেমনই টেলিভিশনের পর্দাতেও দাদাগিরি দেখিয়ে আরও একবার মন জয় করেছেন বাঙালি দর্শকের। সৌরভের সঞ্চালনায় জি বাংলার রিয়্যালিটি শো ‘দাদাগিরি’ যেন এক অনন্য মাত্রা পেয়েছে।

কিছুমাস আগেই শুরু হয়েছে দাদাগিরির নতুন সিজন। খেলতে আসছেন রাজ্যের নানান প্রান্তের নানান প্রতিভাবান মানুষ যারা নিজেদের জীবনে উঠে দাঁড়ানোর দাদাগিরির গল্প শোনান দাদাকে। কীভাবে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জীবন যুদ্ধ ঠিক চালিয়ে যেতে হয়, সেই গল্পই উঠে আসে দাদাগিরির নানা পর্বে।

সম্প্রতি দাদাগিরি খেলতে এসেছিলেন ইস্টবেঙ্গল মহিলা ফুটবল টিমের ক্যাপ্টেন তৃষা। আর দাদাগিরির মঞ্চ ফের একবার সাক্ষী থাকল, কীভাবে মনের ইচ্ছাকে সঙ্গী করে জীবনে ঘুরে দাঁড়ানো যায়। জীবনে নানান কষ্ট, বাধা তো আসবেই। কিন্তু সেসব কিছুকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে জীবনে এগিয়ে চলার নামই আসল দাদাগিরি।

আজ তিনি ইস্টবেঙ্গল মহিলা ফুটবল টিমের ক্যাপ্টেন। কিন্তু তাঁর সেই যাত্রাপথটা মোটেই এমন মসৃণ ছিল না। দত্তপুকুরের মেয়ে তৃষা। বাবার লটারির বিক্রি টাকাতেই কোনওভাবে চলত সংসার। কিন্তু মাঝে বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ায় একেবারে ভেঙে পড়েন তারা।

তৃষার বাবার খুব ইচ্ছা ছিল তিনি ইস্টবেঙ্গলের হয়ে ফুটবল খেলবেন। কিন্তু তা হয়ে ওঠে নি। “তুই যদি আমার ছেলে হতিস, তাহলে আমার স্বপ্নটা পূর্ণ করতে পারতিস”, এমনটাই বারবার তৃষাকে বলতেন তাঁর বাবা। কিন্তু বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে গেলে ছেলেই হতে হবে কেন! এই যুক্তি মেনে নিতে নারাজ ছিলেন তৃষা। ছোটো থেকেই ফুটবল খেলা শুরু তাঁর। তারপর তা নেশায় দাঁড়িয়ে যায়। নানান বাধা পেরিয়ে অনেক কঠোর পরিশ্রমের ফলে আজ তিনি ইস্টবেঙ্গল মহিলা ফুটবল টিমের ক্যাপ্টেন।

এখনও পর্যন্ত দেশের হয়ে খেলার সুযোগ পান নি তৃষা। তবে বেঙ্গলের হয়ে নিজের ক্লাবকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। একদিন দেশের হয়েও লাল-হলুদ জার্সি গায়ে মাঠে দেখা যাবে তৃষাকে, সেই দিনের অপেক্ষাতেই রয়েছেন সকলে। ছেলে না হয়েও যে বাবার স্বপ্নপূরণে কোনও বাধা থাকতে পারে না, তার নিদর্শন তৃষা। মনের ইচ্ছাশক্তি আর জেদের কাছে যে সবরকমের বাধা, প্রতিকূলতা হার মানে, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিয়েছেন দত্তপুকুরের তৃষা।     

RELATED Articles