বয়স মাত্র আড়াই বছর হতে পারে কিন্তু এই ছোট্ট বয়সেই সকলকে একেবারে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সেই খুদে। মুখে যেন তার খই ফুটছে। আর সেই সঙ্গে গড়গড় করে বলে যাচ্ছে গীতার শ্লোক, কবিতা, মনীষীদের নাম সবই। এবার সেই খুদের নাম উঠল ইন্ডিয়া বুক পফ রেকর্ডসে।
কে এই খুদে?
এই খুদের নাম কিরণ গড়াই। পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালের বাসিন্দা সে। বয়স মাত্র আড়াই বছর। কিন্তু এই বয়সেই গীতার ১৮ অধ্যায় শ্লোক তার একেবারে ঠোঁটের ডগায় লেগে রয়েছে। সেই সঙ্গে গড়গড় করে বলে দিচ্ছে ৫০টি কবিতা। শুধু কী তাই, ১৬ জন মনীষীর নাম, ইংরেজিতে সমস্ত ফল, পাখির নামও বলে দিতে পারে ছোট্ট কিরণ। তাঁর এমন ক্ষুরধার স্মৃতিশক্তির কারণেই এবার সে এই ছোট্ট বয়সেই জায়গা করে নিয়েছে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে।
কী বলছেন খুদের মা-বাবা?
কিরণের বাবা বাবন গড়াই বলেন, “ছেলে সবকিছু মনে রাখতে পারে। ১ বছর বয়স থেকেই বই নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করত। কয়েক মাস আগে থেকে একের পর এক বই পড়ে মগজাস্ত্র করেছে অনেক কিছুই। ২৬ টির বেশি মনীষীর ছবি দেখে বলতে পারে নাম। গীতার ১৮টি অধ্যায় আর বাণীও বলতে পারে। সব ফল, শাক-সবজি, পশুপাখির নামও তার ঠোঁটের ডগায়”।
কিরণের মা পূর্ণিমা গড়াই বলেন, “ছেলে অনেক বড় হোক। একজন ভালো মানুষ হোক”। ছেলের এমন মহান প্রতিভা লক্ষ্য করেই ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে আবেদন করেছিলেন কিরণের মা-বাবা। কিছুদিন পরই মিলল স্বীকৃতি। ইতিমধ্যেই মেডেল ও শংসাপত্র এসে পৌঁছেছে কিরণের অন্ডালের বাড়িতে। তার মায়ের কথায়, ছেলের এমন স্মৃতিশক্তির জন্য আগামী দিনে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও আবেদন করতে চান তারা।
কিরণ যে ভবিষ্যতে অনেক দূর যাবে, তেমনই স্বপ্ন দেখেন তার মা-বাবা, সঙ্গে খুদের শিক্ষিকাও। কিরণের শিক্ষিকা ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দু-তিনবার পড়ানোর পরেই মনে রাখতে পারে। বাংলা থেকে ইংরেজি সবেতেই পারদর্শী সে”। কিরণের জীবন সবে শুরু হয়েছে। তিনিও চান যাতে সে আগামী দিনে আরও অনেক এগিয়ে যায়।






