মমতার কবিতায় শেষ হলো বাজেট ভাষণ, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ঘোষণায় কী পরিবর্তন আসছে রাজ্যে?

২০২৫ সালের রাজ্য বাজেট পেশ হল পশ্চিমবঙ্গের সরকারের পক্ষ থেকে। বুধবার রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya) রাজ্য বিধানসভায় এই বাজেট পেশ করেন, যা মূলত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরকারের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট হিসেবে পরিচিত। বাজেটের শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কবিতা পড়ে বক্তব্য শেষ করেন, যা রাজ্যের সংস্কৃতির প্রতি তার অবিচল এক প্রতিশ্রুতি জানায়। রাজ্য সরকারের নানা উদ্যোগ ও প্রকল্পের জন্য বাজেটে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে। এই বাজেটের লক্ষ্য রাজ্যের প্রতিটি খাতে অর্থনৈতিক উন্নতি এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা সুদৃঢ় করা।

বাজেটের মাধ্যমে রাজ্য সরকার কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থান খাতে বিশাল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করেছে। কৃষি খাতে ১০,০০০ কোটি টাকার অধিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষক কল্যাণ এবং কৃষি বিপণন ব্যবস্থার উন্নতির জন্য বিশেষ খাতে ৮২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মাছ চাষ খাতে এই বরাদ্দ কৃষকদের স্বার্থে একাধিক নতুন প্রকল্পের সূচনা করবে। রাজ্যের কৃষকদের জন্য কৃষি বিপণন ব্যবস্থা উন্নত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

স্বাস্থ্য খাতেও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং আরও উন্নতির জন্য ২১,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৪৫ লক্ষ পরিবার উপকৃত হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা সুলভ করতে সরকার ভবিষ্যতে আরও নতুন স্বাস্থ্য প্রকল্প গ্রহণ করবে। হাসপাতালগুলির অবকাঠামো এবং চিকিৎসার মান উন্নয়নে এই অর্থ ব্যবহৃত হবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা সুবিধা আরও সহজ করবে।

শিক্ষা খাতের জন্য ৬,৫৯৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ৩,৫০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। রাজ্য সরকার স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার জন্য ৪১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এছাড়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তি প্রবর্তনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন স্কলারশিপ প্রদান করা হবে। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগটি শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আরও উন্নত সুযোগ সৃষ্টি করবে।

অবকাঠামো খাতের জন্য ১,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থ রাজ্যের সড়ক, সেতু নির্মাণ এবং মেট্রো প্রকল্পের উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি, নদী ভাঙন রোধে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্যের একাধিক শহর এবং গ্রামাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এই বরাদ্দ রাজ্যকে আরও শক্তিশালী এবং আধুনিক অবকাঠামোর দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

আরও পড়ুনঃ ক্ষমতার সিংহাসনে অনিশ্চয়তা! রাষ্ট্রপতি শাসনের আগে কে হবেন পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী?

সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মসংস্থান খাতেও রাজ্য সরকার বিশেষ বরাদ্দ রেখেছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ২১ লক্ষ মহিলা উপকৃত হচ্ছেন। যুবক-যুবতীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। নিউ টাউনে সিলিকন ভ্যালি তৈরি করে ৭৫,০০০ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এই বাজেট রাজ্যের শ্রমবাজারে একটি বড় প্রভাব ফেলবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

এই বাজেটের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী এবং সামাজিকভাবে উন্নত করার জন্য একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করেছে। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পেশ করা বাজেটটি রাজ্যের আগামী দিনের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles