বাংলার বহু প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রের বকেয়া পাওনা নিয়ে শিঘ্রই গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘোষণা আসতে পারে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী সোমবার দিল্লি যাত্রা করছেন বলে খবর মিলেছে। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য রাজ্যের বকেয়া প্রাপ্য অর্থ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সরাসরি আলোচনার। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই পাওনা নিয়ে নবান্নের পক্ষ থেকে সময় চাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকও হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতিপূরণের জন্য কেন্দ্রের কাছে প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বিশেষ করে ‘একশো দিনের কাজ’ এবং ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের অর্থ আটকে রয়েছে। এই বকেয়া পাওনা আটকে থাকার কারণে রাজ্যের অনেক উন্নয়ন কাজ বন্ধ রয়েছে। তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, এই আর্থিক সংকট প্রকল্পগুলোর সুষ্ঠু সম্পাদনায় বিরাট বাধা সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী এই সমস্ত দাবির সঙ্গে মিলিত হয়ে দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন।
এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার দিল্লি গিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি দাবিপত্রও দিয়েছেন। মোদি প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে রাজ্যের বকেয়া অর্থ মুক্তি পায়নি। বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ, হিসেব-নিকেশের অস্বচ্ছতা ইত্যাদি অজুহাতে কেন্দ্র বকেয়া আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ। তৃণমূলের বিরোধীরা এই দুর্নীতি বিষয়ক অভিযোগ ব্যবহার করে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে টাকা আটকে রাখার দাবি করে আসছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী নিজের অর্থ থেকে এই প্রকল্পগুলোর কাজ চালিয়ে নিয়ে গেছেন।
দিল্লি সফরের সময় মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের সাংসদদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। একটি পার্টি অফিসের উদ্বোধন করার পাশাপাশি দলীয় আলোচনা হবে। রাজ্যের পাওনা অর্থ মুক্তির দাবি নিয়ে সাংসদদের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে মমতা এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে দাবি জানাবেন। এই সফরের পর বকেয়া অর্থ মুক্তির দিকে সরে আসার আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ COVID-19 Advisory: আবার ফিরছে করোনা আতঙ্ক! জ্বর-কাশিতে অবহেলা নয়, কাদের জরুরি টেস্ট জানাল কেন্দ্র!
কেন্দ্রের সঙ্গে বাংলার এই অর্থবিষয়ক দ্বন্দ্ব নতুন নয়, তবে এবার মমতার সরাসরি মোদি সঙ্গে সাক্ষাৎ এ বিষয়ে কোনো সমাধানের সূত্রপাত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। আটকে থাকা প্রকল্পের টাকা মুক্তি পেলে রাজ্যের উন্নয়ন কাজে গতি আসবে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, রাজ্যের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কেন্দ্রীয় রাজনীতি ও ভুল দুর্নীতি অভিযোগের কারণে। এবার মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফর রাজ্যের বকেয়া মুক্তি এবং উন্নয়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।





