বিধানসভা নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পারদ এমনিতেই চড়া। তার মধ্যেই কেন্দ্রীয় বাজেট ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। ভোটের আগে কেন্দ্রের ঘোষণাগুলি কি সত্যিই উন্নয়নের জন্য, নাকি এগুলি নির্বাচনী কৌশলের অংশ—এই প্রশ্নই এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
রবিবার সংসদে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বাজেট পেশ করার সময় পশ্চিমবঙ্গের নাম একাধিকবার উঠে আসে। অবকাঠামো ও শিল্প উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজ্যকে সামনে রেখে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা বলা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ডানকুনি থেকে গুজরাটের সুরাট পর্যন্ত একটি বিশেষ মালবাহী করিডোর, দুর্গাপুরকে কেন্দ্র করে পূর্ব উপকূলীয় শিল্প করিডোর এবং ‘পূর্বোদয়’ প্রকল্পের আওতায় পূর্ব ভারতের জন্য পর্যটন উন্নয়নের ভাবনা। বিজেপির বক্তব্য, এই ঘোষণাগুলি প্রমাণ করে যে কেন্দ্র পূর্ব ভারতের উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বাংলাও তার বড় অংশ।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি করেছে ডানকুনি-সুরাট মালবাহী করিডোর। কেন্দ্রের দাবি, এই করিডোর চালু হলে পণ্য পরিবহন আরও সস্তা ও পরিবেশবান্ধব হবে, কমবে পরিবহন খরচ এবং উপকৃত হবে রাজ্যের শিল্প ক্ষেত্র। বিজেপির নেতাদের মতে, এই ধরনের বড় প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং অর্থনীতিকে গতি দেবে, যা বর্তমান রাজ্য সরকারের আমলে যথেষ্ট ধীর হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। সামনে ২৯৪ আসনের বিধানসভা নির্বাচন, আর তার আগে এমন ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক বার্তা খুঁজছে বিরোধীরা।
তৃণমূল কংগ্রেস এই বাজেটকে দেখছে ভিন্ন চোখে। দলের নেতারা একে বাস্তব আর্থিক পরিকল্পনার বদলে ‘নির্বাচনী সংকেত’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে বাংলায় মনরেগা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ও গ্রামীণ রাস্তার মতো একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে রাখা হয়েছে। তাঁর যুক্তি, পুরনো প্রাপ্য অর্থ ছাড়া নতুন প্রকল্পের ঘোষণা সাধারণ মানুষের কাছে অর্থহীন।
আরও পড়ুনঃ budget 2026 : “বাংলা বঞ্চিত, বাজেট শুধু মিথ্যের ফুলঝুরি…কেন কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গকে এভাবে এড়িয়ে গেল?”–২০২৬-এর বাজেট নিয়ে কি দাবি করলেন বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা? কেন্দ্র কি সত্যিই দিশাহীন বাজেট দিয়েছে?
বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, নতুন রাস্তা, শিল্প করিডোর ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিমবঙ্গে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে বাজেট ঘোষণায় উন্নয়ন ও রাজনীতির সীমারেখা অনেক সময় ঝাপসা হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা এই ঘোষণাকে বাস্তব সম্ভাবনা হিসেবে দেখবেন, নাকি নিছক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবেই নেবেন—তার উত্তর মিলবে ব্যালট বাক্সেই।





