রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সামনেই ভোট, তাই রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে টানাপোড়েন বাড়ছে। শাসক এবং বিরোধী, দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন ইস্যু সামনে আসছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যেকার বাকযুদ্ধ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। আর এই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
গত কয়েকদিন ধরে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়েছে। একদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, রাজ্যে মুসলিম লিগের সরকার চলছে। অন্যদিকে, শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই দুই শিবিরের মধ্যে সংঘাত চরমে উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং ভোটের আগে জনমত গঠনের এক বড় প্রচেষ্টা।
এই পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার বিধানসভায় সরাসরি বিজেপি এবং শুভেন্দুকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যপালের ভাষণের জবাবে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি মুসলিম লিগ করি? আমি জঙ্গি? নির্বাচনের সময় আপনাদেরই তো মুসলিম লিগের সাহায্য দরকার হয়!” তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিজেপির দ্বিচারিতা তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি। পাশাপাশি, তিনি আরও জানান, শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখবেন।
আরও পড়ুনঃ ফের শহরে ভয়ংকর কাণ্ড! ট্যাংরায় দুই মহিলার র’ক্তাক্ত দেহ, উদ্ধার শিশুর লা’শ!
এখানেই থেমে থাকেননি মমতা। তিনি বলেন, “আমি কি হিন্দু ধর্মকে তাচ্ছিল্য করি? আমি ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে। কিন্তু আমি কাউকে ঘৃণা করতে শিখিনি। বিজেপি প্রতিনিয়ত ধর্মের নামে বিভেদ তৈরি করছে, যা আমি কখনও মেনে নেব না।” পাশাপাশি, তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করতে চাইছে, যা বাংলার সংস্কৃতির পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, “আপনারা বাংলার মানুষকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু মানুষই আপনাদের যোগ্য জবাব দেবে।”
তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপির তরফে পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য আসলে তাঁর ব্যর্থতা আড়াল করার কৌশল। বিজেপি নেতারা বলছেন, তৃণমূল সরকার সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতি করছে, তাই মুখ্যমন্ত্রী এখন আত্মরক্ষার চেষ্টা করছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই উত্তপ্ত বাকযুদ্ধ ভোটের আগে আরও বড় আকার নিতে চলেছে।





