জাকির হোসেনের অফিসে জিএসটি অভিযান! ব্যবসা নয়, টার্গেট কি বিধায়ক? উঠছে গুরুতর প্রশ্ন!

রাজনৈতিক মঞ্চে প্রতিদিনই নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। দলবদল, ক্ষমতার পালাবদল, প্রশাসনের ভূমিকা—সব মিলিয়ে রাজনীতির ময়দানে চাপে অনেকেই। বিরোধীরা অভিযোগ তোলে, ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির একের পর এক তদন্ত চালানো হচ্ছে। আবার অন্যদিকে শাসক শিবিরের দাবি, তদন্তই যদি হয়, তবে ভয় কিসের? এই টানাপোড়েনের মাঝেই এবার সামনে এল এক বিধায়কের অফিসে কেন্দ্রীয় টিমের অভিযান। এই ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।

বিধায়ক থেকে ব্যবসায়ী—দুই পরিচয় নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির ময়দানে রয়েছেন জাকির হোসেন। একদিকে তিনি জঙ্গিপুরের তৃণমূল বিধায়ক, অন্যদিকে সেখানকার অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়ীও। তাঁর বিড়ির ব্যবসা বহু মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এহেন পরিস্থিতিতে তাঁর অফিসে হানা দেওয়ার খবর চাউর হতেই শুরু হয় চাঞ্চল্য। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে, এটি নিছকই নিয়মমাফিক তল্লাশি। কিন্তু অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর নেপথ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে জাকির হোসেনের প্রোডাকশন হাউসে হানা দেয় জিএসটি আধিকারিকদের একটি দল। সূত্রের খবর, তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সিআরপিএফ জওয়ানেরা। প্রায় ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তল্লাশি চলে। মূলত আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কিছু তথ্য যাচাই করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আধিকারিকরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও নিয়ে গিয়েছেন। যদিও বিধায়ক জানিয়েছেন, তিনি পুরোপুরি আইন মেনে ব্যবসা করেন এবং যথাযথ কর দেন।

আরও পড়ুনঃ “মমতাই জঙ্গি? নির্বাচনের সময় মুসলিম লিগের সাহায্য নেন কারা?”— শুভেন্দুকে পাল্টা আক্রমণ!

তল্লাশির পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জাকির হোসেন বলেন, “অফিসাররা তাঁদের দায়িত্ব পালন করেছেন, আমিও পূর্ণ সহযোগিতা করেছি। আমি নিয়ম মেনে কাজ করি, তাই ভয় পাওয়ার কিছু নেই।” পাশাপাশি তিনি জানান, এই ধরনের অভিযান তাঁর কর্মীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করছে। প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যৎ এই কারখানার ওপর নির্ভরশীল। ফলে বারবার এই ধরনের অভিযান হলে তাঁদের রুটিরুজি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

এর আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তাঁর অফিসে আয়কর দফতরের অভিযান হয়েছিল। বারবার এমন অভিযানের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “কেন্দ্রের উপর আমার আস্থা আছে। কিন্তু যদি আগেই নোটিস পাঠিয়ে জানানো হতো, তাহলে বিষয়টা আরও সহজ হতো।” শেষ পর্যন্ত তিনি বলেন, “আমাকে ডাকলে আমি অবশ্যই যাব, কারণ লুকোনোর কিছু নেই। তবে আশা করি, অফিসাররা সঠিক রিপোর্ট দেবেন।”

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর