Suvendu Adhikari : ‘বাংলা ভাষার রক্ষাকর্তা মমতা? যিনি বাঙালিকেই অপমান করেছিলেন!’— ধর্মতলার বার্তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক শুভেন্দু!

২১ জুলাইয়ের জমায়েতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভাষা আন্দোলন’-এর ডাক ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। ধর্মতলার জনসভা থেকে বাংলা ভাষা ও বাঙালি পরিচয় রক্ষার ডাক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বিজেপি বাংলাভাষী মানুষদের বাংলাদেশি তকমা দিচ্ছে। তিনি আরও ঘোষণা করেন, ২৭ জুলাই থেকে গোটা রাজ্য জুড়ে শুরু হবে তৃণমূলের ‘ভাষা আন্দোলন’। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই ভাষণকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

মুখ্যমন্ত্রীর সেই মন্তব্যকে কটাক্ষ করে মঙ্গলবার দমদম বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বাংলা ভাষার ওনার কে? বাংলা ভাষা রক্ষা করার দায়িত্ব ওনাকে কে দিয়েছে?” এখানেই না থেমে তিনি স্মরণ করান, রাষ্ট্রপতি পদে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণার সময় তিনিই প্রথম বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর কথায়, “একজন বাঙালিকে যখন রাষ্ট্রপতি করার প্রস্তাব এসেছিল, সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন তিনি বাংলা ভাষার রক্ষাকর্তা সেজেছেন!”

শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, “যে পার্টিটাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গালাগালি করেন, সেই পার্টিটাকে বাঙালিরাই প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর নাম শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।” পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শদাতা প্রয়াত বিবেক দেবরায়, বর্তমান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যাল এবং হরিয়ানার রাজ্যপাল নিযুক্ত অসীম ঘোষের নাম তুলে বলেন, “এঁরা সকলেই কৃতী বাঙালি। বাংলার গর্ব। তাই শুধু ভাষার নামে রাজনীতি নয়, আসল বাঙালিয়ানা বোঝা দরকার।”

সোমবার ধর্মতলার সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “বাংলা বললেই আমাদের বাংলাদেশি বলা হচ্ছে। বিজেপি বাংলা ভাষার বিরোধিতা করছে। বাংলা ও বাঙালিকে ছোট করার চেষ্টা হচ্ছে।” এই অবস্থায় তিনি দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন রাজ্যজুড়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে। ‘বাংলা বাঁচাও’ স্লোগান তুলে তিনি জানান, বাংলা ভাষা রক্ষার লড়াই হবে এবার তৃণমূলের মূল অস্ত্র।

আরও পড়ুনঃ ED : একের পর এক তারকা পা রাখছেন অন্ধকার জগতে, বেআইনি বেটিং মামলায় ইডির তলব, নজরে ২৯ সেলেব!

তৃণমূল বনাম বিজেপির এই নতুন বাকযুদ্ধে ফের একবার সামনে এল ভাষা নিয়ে রাজনীতি। বাংলা ভাষার ‘অপমান’-এর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগকে কেউ সাধুবাদ জানাচ্ছেন, কেউ আবার এটিকে ‘ভোটের রাজনীতি’ বলেই কটাক্ষ করছেন। শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠছে— বাংলা ভাষার প্রকৃত রক্ষাকর্তা আসলে কে? মঞ্চে ভাষণের জোর, নাকি ইতিহাসে স্মৃতির বিস্তার— ভবিষ্যতে তা-ই ঠিক করবে বাংলার জনমানস।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর