একুশে জুলাইয়ের আগে থেকেই বাংলার রাজনীতিতে চাপা উত্তেজনা। কখন কে দল বদলাবেন, কার ভবিষ্যৎ কোন দিকে গড়াবে—তা নিয়ে নানা জল্পনা চলছে জোর কদমে। বিশেষ করে বিজেপি-তৃণমূল ঘিরে যে গুঞ্জন, তা আরও উসকে দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দিলীপের দীঘার জগন্নাথ মন্দির দর্শনের ছবি ঘিরে তৈরি হয়েছিল নতুন জল্পনা। তবে সেই জল্পনা মিথ্যা প্রমাণ হলেও এবার নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এলেন অভিনেতা ও সাংসদ দেব।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে দিলীপ ঘোষ সরাসরি আক্রমণ করেন দেবকে। তিনি বলেন, ‘দেব প্রতিবার নির্বাচনের আগে বলেন, “এইবার যদি ঘাটালের সমস্যা মেটাতে না পারি, তাহলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।” কিন্তু আবার দাঁড়ান ভোটে, আবার মানুষ ভোট দেন।’ দিলীপের মতে, মেদিনীপুরের ছেলে হলেও দেব কার্যত কোনও কাজ করছেন না ঘাটালের উন্নয়নের জন্য। একে অকর্মণ্য বলে অভিহিত করতেও পিছপা হননি দিলীপ।
দিলীপ ঘোষের মতে, দেব স্বেচ্ছায় নয়, বরং চাপের মুখে পড়ে রাজনীতিতে রয়েছেন। তাঁর দাবি, ‘কার চাপে রাজনীতি করছে সে? কেন বারবার ভোটে দাঁড়িয়ে ঘাটালের মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে?’ ঘাটালের জলমগ্ন সমস্যা তুলে ধরে দিলীপ প্রশ্ন করেন, ‘ঘাটালের মানুষ কি এটুকুও বলতে পারে না যে, তুমি আমাদের বাড়ির ছেলে, অথচ আমরা কোমর জলে হেঁটে চলি? ছ’মাস জলমগ্ন থাকে এলাকা। কাজ কিছুই হয়নি।’
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশ আসে দিলীপের মন্তব্যে, যখন তিনি বলেন—‘অবশ্যই ব্ল্যাকমেল করে রাজনীতি করানো হচ্ছে দেবকে।’ তাঁর বক্তব্য, গরু পাচার মামলায় দেবকে ডাকা হয়েছিল, আর সেই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে ছিলেন তৃণমূলেরই কিছু নেতা। দিলীপের আরও দাবি, ‘প্রতিবার বলা হয়, ভোটে না দাঁড়ালে সিনেমা বন্ধ করে দেব, প্রোডাকশন হাউজ বন্ধ করে দেব। ফলে সে বাধ্য হয়ে দাঁড়ায়।’
আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari : ‘বাংলা ভাষার রক্ষাকর্তা মমতা? যিনি বাঙালিকেই অপমান করেছিলেন!’— ধর্মতলার বার্তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক শুভেন্দু!
সবশেষে দেবকে উদ্দেশ করে দিলীপ বলেন, ‘দম থাকলে বেরিয়ে এসো। চোরেদের কাছে মাথা নত করো না।’ তাঁর মতে, মেদিনীপুরের মানুষ চামচাগিরি করেন না, তাঁদের মেরুদণ্ড সোজা। তাই দেব যদি সত্যিই মেদিনীপুরের ছেলে হন, তবে তাঁর উচিত সত্যের পথে হাঁটা। দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে—সত্যিই কি দেব চাপে পড়েই ভোটে দাঁড়াচ্ছেন? নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও কাহিনি?





