তৃণমূলে ভাঙ্গন যেনও অব্যহত। ২১শের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্য কোনও নির্বাচনেই বোধহয় এই পরিমাণ দলে ভাঙন ধরেনি। নির্বাচনের হাতেগোনা মাত্র ১৫ দিন আগে উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দিলেন ইটাহারের বিদায়ী বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অমল আচার্য । তবে শুধু অমলই নন, জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি বিনয় সরকার-সহ কয়েকশো তৃণমূল নেতা ও কর্মী এদিন যোগ দিলেন বিজেপিতে। ইটাহারের রাজনীতিতে অমলই ছিলেন শেষ কথা।
আরও পড়ুনঃ “আরামবাগ ওসির ওপর আমি নজর রাখছি”, ভোট প্রভাবিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের রোষানলে মমতা
উল্লেখ্য, বুধবার ইটাহারের উল্কা ক্লাবে বিজেপির রায়গঞ্জের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরীর হাত থেকে বিজেপির পতাকা তুলে নিলেন নন্দীগ্রামের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ নেতা অমল আচার্য। এই উল্কা ক্লাবেই ঘাস ফুলের পতাকা নামিয়ে খোলা হয় বিজেপি নয়া নির্বাচনী কার্যালয়।
তবেই দলবদলের পিছনে ক্ষোভের কারণ রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের ডাকসাইটের নেতা দুইবারের বিধায়ক অমল আচার্যকে এবার প্রার্থী করেনি তৃণমূল। তাঁকে প্রার্থী করার দাবিতে সোচ্চার হতে দেখা গিয়েছে ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের। এবার উত্তর দিনাজপুর জেলায় দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে দুই জয়ী প্রার্থীকে পরিবর্তন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ইটাহার বিধানসভা কেন্দ্রে দুবারের তৃণমূল বিধায়ক অমল আচার্যকে এবার প্রার্থী করেননি। সেই ক্ষোভেই অমলের এই দলত্যাগ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ অমল আচার্যকে টিকিট না দিয়ে উত্তর দিনাজপুর জেলাপরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মুশাররফ হোসেনকে প্রার্থী করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আর এতেই ইটাহার বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের একাংশ ক্ষুব্ধ। যদিও শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগদানের পর থেকেই অমলের দলবদলের ইঙ্গিত পেয়েই তাঁকে আর প্রার্থী করা হয়নি বলে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি। তাই দলে থেকেও বেশ কয়েক মাস নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন ইটাহারের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা তথা জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান অমল আচার্য। যদিও এই দাপুটে তৃণমূল নেতার দলবদলকে খুব একটা আমল দিতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব।





