লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নাকি ‘নারায়ণ ভাণ্ডার’? লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন পুরুষরাও, ৬০ বছরের কম হয়েও মিলছে বার্ধক্যভাতা, নতুন স্কিম নাকি সরকারের?

Man Getting Money of Lakshmir Bhandar: রাজ্যের মহিলাদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার চালু করেছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। এই প্রকল্পে রাজ্যের মহিলারা বর্তমানে পাচ্ছেন মাসিক ১০০০ টাকা ও তফশিলি জাতির মহিলারা পাচ্ছেন মাসিক ১২০০ টাকা। রাজ্যের মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট করা এই প্রকল্পের টাকা এবার পাচ্ছেন পুরুষরাও (Man Getting Money of Lakshmir Bhandar)। এমনটা শুনতে অবাক লাগলেও এমনটাই ঘটছে রাজ্যে।

এই ঘটনাটি ঘটেছে গড়বেতা ৩ নম্বর ব্লকের সাতবাঁকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তুঁতবাড়ি গ্রামে। সেই গ্রামের বাসিন্দা ভারতী পাল। বয়স ৭০ বছর। তিনি জানান, প্রায় বছর তিনেক আগে তিনি সরকারের প্রকল্প বার্ধক্য ভাতার জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও টাকা পান নি। অভিযোগ, সেই টাকা নাকি ঢুকেছে ই গ্রামেরই বাসিন্দা গোরাচাঁদ কুণ্ডু নামে এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে (Man Getting Money of Lakshmir Bhandar)

এই অভিযোগ পেয়েই তদন্ত শুরু করেন বিডিও। তাতে জানা যায়, ওই ব্যক্তি যে শুধু বার্ধক্য ভাতা পাচ্ছেন তাই-ই নয়, তিনি গত তিন বছর ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাও পাচ্ছেন (Man Getting Money of Lakshmir Bhandar)। গোরাচাঁদকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বিডিও। এরপর পুলিশকে অভিযোগ করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদেরি বিডিওকে এই ঘটনার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর।

কিন্তু এই ঘটনা থেকে উঠে আসছে একাধিক প্রশ্ন! মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট করা সরকারি প্রকল্পের টাকা কীভাবে একজন পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকে? প্রশাসনের কর্মীদের মদত না থাকলে, এমনটা তো সম্ভব নয় (Man Getting Money of Lakshmir Bhandar)। আর তাছাড়া, ওই ব্যক্তির ৬০ বছর বয়সও হয়নি, তা সত্ত্বেও কীভাবে ওই ব্যক্তি বার্ধক্য ভাতা পাচ্ছেন, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। একই ব্যক্তি কীভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও বার্ধক্য ভাতা, দুই প্রকল্পের টাকা পান, তা নিয়েও প্রশ্ন কম নয়। কিন্তু এই প্রশ্নের জবাব নেই প্রশাসনের কাছে।

এদিকে, অভিযুক্ত গোরাচাঁদের পরিবারের দাবী, তারা নাকি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। গোরাচাঁদের অ্যাকাউন্টে যে এভাবে টাকা ঢুকছে, তা প্রশাসনের জানানোর পরই তারা জেনেছেন। তাদের দাবী, তারা তাআ ফেরানোর প্রস্তাবও দিয়েছিলেন, কিন্তু তাও গ্রেফতার করা হয়েছে গোরাচাঁদকে। পরিবারের দাবী, প্রশাসনিক কর্মীদের আড়ালে এভাবে গোরাচাঁদকে বলির পাঁঠা করা হচ্ছে (Man Getting Money of Lakshmir Bhandar)।    

আরও অন্যান্য খবর