গত কয়েক মাস ধরে করোনাতে আক্রান্ত গোটা বিশ্ব। মৃত্যু ছিনিয়ে নিয়েছে লক্ষাধিক প্রাণ। করোনার করাল প্রকোপে দুনিয়া স্তব্ধ, মানুষ আতঙ্কে দিশাহারা ও অসহায়। এরই মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিভিন্ন চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকার দেশজুড়ে গত ২৫শে মার্চ থেকে ঘোষণা করেছে লক ডাউন, লক-ডাউনে সমস্ত কিছু বন্ধ; কর্মহীন দেশ তথা রাজ্যের একটা বড় অংশ।

যাঁরা দিন-আনি-দিন-খায়, প্রতি দিনের মজুরিতে যাদের খাদ্য জোগাড় হয়; কাজ না থাকায় এইসব পরিবার অভুক্ত। ফলে পেটের জ্বালায় লকডাউনের বিধি নিষেধ মানা সম্ভব হচ্ছে না তাদের পক্ষে; তারা জোগাড় করতে পারছে না দু’বেলার দুই মুঠো ভাত।

তাই এই দুর্বিসহ সংকটকালে সেই অসহায় বিপন্ন মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়েছে মানবিক তহবিল, তাহেরপুর।

মানবিক তহবিল, তাহেরপুর দুস্থ ও অনন্যোপায় পরিবারগুলোর কাছে জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম খাদ্য-সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে গত ২৫শে মার্চ অর্থাৎ দেশজুড়ে লকডাউনের প্রথম দিন থেকেই।

মানবিক তহবিল, তাহেরপুর-এর সদস্যরা TNAA প্রতিটি ব্লক, বারাসাত গ্রাম পঞ্চায়েত এর বিস্তির্ন অঞ্চল, খিসমা গ্রাম পঞ্চায়েত এর কিছু অঞ্চল, রানাঘাট ১নং ব্লকের রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের হুগলি নদী তীরবর্তী সাহেবডাঙ্গা, শান্তিপুর ব্লকের মানিকডিহি (আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা), রানাঘাট উত্তর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের দলুই গ্রাম আদিবাসী পাড়ার প্রায় ২০০০টি দরিদ্র পরিবারের কাছে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে পেরেছে। প্রতিদিনের খাওয়ার জন্য তাদের পৌঁছে দেওয়া হয়েছে চাল,ডাল,আলু,তেল,সয়াবিন, পিয়াজ, সাবান, মাস্ক প্রভৃতি।

মানবিকতার এই প্রয়াসে মানবিক তহবিল, তাহেরপুর-এর দিকে বিভিন্ন ধরনের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের সহৃদয় ব্যক্তিবর্গ। শুধু খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়াই নয় যাদের কাঁচামাল দিলেও রান্না করে খেতে পারবে না তাদের রান্না করা খাদ্য সামগ্রী পরিবেশন করা হচ্ছে।

পথ কুকুরদেরও নিয়মিত খাবারের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। এছাড়াও গ্রামীণ যে সব এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা করার মতো ব্যবস্থা নেই সেখানে একাধিক দিন ডাক্তার পাঠিয়ে মেডিক্যাল ক্যাম্প-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়েছে ওই ক্যাম্পগুলো থেকে।

এলাকার কিছু দুঃস্থ পরিবারের হাতে শিশু খাদ্য তুলে দেওয়া হয়েছে, কিছু মুমূর্ষ রুগীর আপদকালীন অবস্থায় রক্তের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

গ্রামীণ এলাকার মেয়েদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহ করা হয়েছে তাদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে।

মানবিক তহবিল, তাহেরপুর-এর প্রধান সংগঠক শঙ্কর পাণ্ডে বলেন “আমরা মাধ্যম মাত্র; যাদের সাহায্য করার ক্ষমতা বা মন রয়েছে তাদের দেওয়া সাহায্যই আমরা যাদের প্রয়োজন তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি মাত্র, সংগঠনের প্রত্যেকটি সদস্যের অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে আগামী দিনগুলোতে আরো অনেক মানুষের কাছে আমরা পৌঁছে যেতে পারব।”

দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক রেখে মানবিকতার উত্তরণে ও উদ্বোধনে মানবিক তহবিল, তাহেরপুর নিরন্তর কাজ করে চলেছে।

‘মানবিকতার জয় হোক’ এই দৃষ্টিভঙ্গিকে পাথেয় করে এরা এগিয়ে চলছে মানবতার জয় গান রচনা করতে।







