‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা যাচ্ছে স্বামীদের মদ কেনায়, ‘সংসার চালানো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে’, অভিযোগ তুলে মিছিল মহিলাদের

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের স্বপ্নের প্রকল্প হল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলারা প্রতি মাসে ১০০০ টাকা ও তফশিলি জাতি-উপজাতির মহিলারা মাসে ১২০০ টাকা পান। তবে মহিলাদের স্বনির্ভর করার এই প্রকল্পের কারণে বাড়ছে পুরুষদের মদ, চোলাই খাওয়ার নেশা। এবার এই নিয়ে রুখে দাঁড়ালেন মহিলারাই।

গতকাল, বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া ১ ব্লকের গাড়াফুসড় গ্রামের স্বনির্ভর দলের কয়েকশো মহিলা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে গ্রামে মিছিল করেন। তাদের মুখে স্লোগান শোনা যায়- ‘মদ হটাও, মাতাল হটাও, মহিলাদের সম্মান বাঁচাও’। তাদের দাবী, তাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিয়ে তাদের স্বামীরা চোলাই খাচ্ছেন। সেই কারণে এই ঠেক বন্ধ করার উদ্যোগ নেন তারা।  

পুরুলিয়া ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হলেন পদ্মাবতী মাহাতো। তিনি এই নিয়ে বলেন, “চোলাই বিক্রির জন্য সংসারে অশান্তি চলছে বলে গ্রামের মহিলারা আমাকে কয়েক দিন আগে জানিয়েছিলেন। মদ খেতে স্বামীরা লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকাতেও ভাগ বসাচ্ছেন বলে অভিযোগ পেয়েছি। কিছু বহিরাগত গ্রামে মদ বিক্রি করছেন। আমি বিষয়টি প্রশাসন ও আবগারি দফতরকে দেখতে বলব”।

আন্দোলনকারী এক মহিলার কথায়, “লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা বাক্সে রাখা হলেও স্বামীরা তালা ভেঙে সেই টাকা নিয়ে মদ খেতে নিয়ে যায়”। প্রতিবাদে শামিল মহিলারা বলছেন, “সংসার চালানো দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে বলেই গ্রামে মদ বিক্রি বন্ধ করতে পথে নেমেছি”।

মহিলাদের এই আন্দোলনে অংশ নেয় ‘ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি’ও। এই সমিতির পুরুলিয়া জেলা সম্পাদক মধুসূদন মাহাতো এই বিষয়ে বলেন, “লক্ষ্মীর ভান্ডার মহিলাদের নিজস্ব অধিকার। নেশার জন্য সেই টাকাতেও ভাগ বসাচ্ছে কেউ কেউ! অবিলম্বে চোলাইয়ের ঠেক বন্ধ করা হোক”।

যখন রাজ্য সরকারের তরফে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালু করা হয়, সেই সময় বিজেপি নেতৃত্বের তরফে বলা হয়েছিল, রাজ্য সরকার আসলে এই প্রকল্পের মাধ্যমে মদ বিক্রি বাড়িয়ে রাজস্ব আদায় করতে চায়। এবার এই ঘটনায় পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন, “মায়েরা এ রকম লক্ষ্মীর ভান্ডার চান না, মদ খেতে যে টাকায় ভাগ বসানো হয়। তাঁরা সংসারে শান্তি চান”।

আরও পড়ুনঃ ‘চক্রান্ত চলছে, আমাকে খুন করতে পারে ওরা…’, যৌথ সংসদীয় কমিটির বৈঠক বিতর্ক নিয়ে ফের বিস্ফোরক কল্যাণ, খোলা চ্যালেঞ্জ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে

এর প্রেক্ষিতেই গাড়াফুসড় গ্রামের বাসিন্দা প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের রাজ্য নেতা শান্তিরাম মাহাতোর পাল্টা জবাব, “লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের সাফল্য দেখে বিজেপির গাত্রদাহ হচ্ছে। প্রকল্পের টাকা যদি দু’-এক জন কখনও-সখনও অন্য ভাবে খরচ করেন, তার জন্য সমগ্র প্রকল্পের দিকে আঙুল তোলা যায় না”।

RELATED Articles