দিদি ও দিদি নম্বর ১! রচনার ‘কুইন্টাল কুইন্টাল জল’-এর পর এবার মমতার ‘কিউসেক টন জল’ মন্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসাহাসি নেটিজেনদের

এর আগে হুগলিতে বন্যা পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে সেখানকার তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছিলেন, “কুইন্টাল কুইন্টাল জল বেরিয়ে আসছে”। তাঁর সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ট্রোলের শিকার হয়েছিলেন তিনি। এবার তাঁরই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যেন সেই একই পথেই হাঁটলেন। আর তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়ে গিয়েছে নানান টিপ্পনী।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যে যে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিয়ে ডিভিসিকে কটাক্ষ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডিভিসির নিয়ন্ত্রণাধীন নানান জলাধারের জল ধারণ ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। তাঁর দাবী ছিল, বাংলার বন্যা আসলে ‘ম্যান মেড’। ইচ্ছা করে বাংলাকে ডুবিয়েছে ডিভিসি, এমনটাই অভিযোগ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শুধু তাই-ই নয়, সেই সময় ডিভিসি-র সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে দেওয়ার কথাও বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তা নিয়ে কেন্দ্র সরকারকেও চিঠি লিখেছিলেন তিনি। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’র হানা। ঘূর্ণিঝড়ের জেরে অতিভারী বৃষ্টি বঙ্গে। এর জেরে দক্ষিণবঙ্গের নানান জেলায় ফের প্লাবনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আর এই কারণেই ফের এক একবার ডিভিসি-কে বিঁধেছেন মমতা।

ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ নিয়ে গতকাল, বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি বলেন, “ডিভিসির বাঁধটা যদি ওরা খননটা ঠিক মতো করে, পলিগুলো ক্লিয়ার করে তাহলে কিন্তু ওরা চার লক্ষ কিউসেক টন বেশি জল বেশি রাখতে পারে”। এরপরই পাশে বসে থাকা মুখ্যসচিবকে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, “কিউসেক বলে, তাই তো”।

তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে নানান কটাক্ষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে তো হাসাহাসি চলছেই। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতার এই ভিডিও শেয়ার করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী লিখলেন, “তোলামূলের অনন্য প্রতিভাশালীদের কেউ জল মাপেন কুইন্টাল-এ, কেউ মিলিলিটারে, তো কেউ আবার জল মাপেন মেট্রিক টন বা টন-এ….”।

আরও পড়ুনঃ ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা যাচ্ছে স্বামীদের মদ কেনায়, ‘সংসার চালানো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে’, অভিযোগ তুলে মিছিল মহিলাদের

উল্লেখ্য, কোনও বাঁধের জলধারণ ক্ষমতা মাপা হয় ঘনফলে। ঘনফুট, ঘন মিটার, একর ফুট ইত্যাদি এককে বাঁধের জলধারণ ক্ষমতা মাপা হয়ে থাকে। কোনও ছিদ্র থেকে তরলের নির্গমনের হারকে কিউসেক বা কিউমেক এককে মাপা হয়।

RELATED Articles