দমদমের পুর এলাকার এক আবাসনের বাসিন্দাদের এখন দিন কাটছে আতঙ্কের মধ্যে। এই বুঝি প্রাণটা বেরিয়ে যায়, এখন তেমনই অবস্থা আবাসনের মানুষদের। কারণ তাদের আবাসনের চারতলার কার্নিশের উপর দিয়েই ছুটবে মেট্রো (Metro)। আর এর জেরে এখন আতঙ্ক ঘনিয়েছে সেই আবাসনের বাসিন্দাদের মধ্যে।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
জানা গিয়েছে, বছর আটেক আগে দমদম পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নস্কর পরিবারের জমিতে একটি বহুতল তৈরি হয়। সেই বহুতলের প্রোমোটার ওই আবাসনেই থাকেন। সেই বহুতলার চারতলার কার্নিশের উপর দিয়েই মেট্রো পথ তৈরি হয়েছে। মেট্রোর দাবী, মেট্রো (Metro) রেলপথের জায়গা দখল করেই ওই বহুতলের একাংশ তৈরি হয়েছে।
আবার আবাসনের বাসিন্দাদের প্রশ্ন, এই বহুতল বেআইনি হলে পুরসভা অনুমোদন দিল কীভাবে? তবে পুরসভার তরফে এই নিয়ে কোনও সদুত্তর মেলেনি। কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মেট্রো (Metro) চলাচল যখন শুরু হবে, তখন কম্পনের জেরে ওই বহুতল শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে তো? আর প্রশ্ন মাথায় নিয়েই আতঙ্কে ভুগছেন আবাসনের বাসিন্দারা।
এই বহুতলের প্রোমোটার প্রমোদ মিশ্র বলছেন, “আমি যখন এই প্রোমোটিংটা করি, তখন মিউনিসিপ্যাল রেকর্ড অনুযায়ী এটা আড়াই কাঠা জমি ছিল। জমিও আমার আড়াই কাঠা, অনুমোদনও হয়েছে তাই। মেট্রো (Metro) রেল হওয়ার পর একটি কোম্পানির ঠিকাদার এলেন, তিনি বললেন, আপনাদের বাড়ি কিছুটা অংশ রেলের জমির মধ্যে ঢুকে রয়েছে”।
এই আবাসনের এক বাসিন্দা বলেন, “আমাদের বাড়ির একটা অংশের আট ফুট ঢুকে গিয়েছে। তাই দেখে ওরা ওই অংশটা ভেঙে মেট্রো (Metro) রেলের পথ বানিয়ে ফেলল। এখন আমরা অনেকটাই আতঙ্কে রয়েছি। কারণ যখন মেট্রো চলবে, বাড়ি ভাঙা পড়ে, তখন আমরা কী করব, বুঝতেই পারি না”।
অন্য এক বয়স্ক মহিলা বলেন, “রাতে ভয়ে ঘুমোতে পারি না। বাড়ি কবে ভেঙে যাবে, কোথায় যাব, সেই আতঙ্কে রয়েছি। আমরা হাত জোড় করে বলছি, যাতে আমরা কটা টাকা পাই, আমরা এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাব। কবে চাপা পড়ে যাব, জানি না”।
ফ্ল্যাট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক আশিস সাহার কথায়, “আমরা আবেদন করছি, যাতে আমাদের কোনও একটা সুরাহা হোক। আমরা কোথায় যাব? আমরা সবাই আতঙ্কে”।
এদিকে মেট্রোর (Metro) সিপিআরও-র কথায়, “এই প্ল্যানিংটা অনেক আগে থেকে হয়েছে। মেট্রো নিজের জমির ওপরেই নির্মাণ করেছে”।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। লোকসভা নির্বাচনে দমদমের বিজেপি প্রার্থী শীলভদ্র দত্ত বলেন, “এটাই তো বাংলার ছবি। দমদমে কত বেআইনি নির্মাণ রয়েছে। এগুলো করেছেন বলেই তো কাউন্সিলর-মেয়রদের এত সম্পদ হয়েছে”।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে সিপিএম প্রার্থী সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, “এটা ভয়াবহ ঘটনা। রেলের জমি দখল করেও আবাসন হয়ে যাচ্ছে। যা হচ্ছে ভাবা যায় না। সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে”।





