তীব্র গরমে যখন শহরের রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা, তখনও কেউ কেউ বুক ঠুকে ছুটে যান ব্রিগেডের সভায়। গলায় ঝোলানো পতাকা, কাঁধে ব্যাগ আর চোখে স্বপ্ন—এই দৃশ্য বহুবার দেখা গেছে কলকাতার রাজপথে। ব্রিগেড মানেই যেন এক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে ওঠা, রাজনীতির আবেগে ভেসে যাওয়া। কিন্তু বদলেছে সময়, বদলেছে প্রজন্ম। আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে কি ব্রিগেড আর আগের মতোই তাত্পর্য রাখে?
সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই বোঝা যায়, আগের সেই উন্মাদনা এখন আর তেমন নেই। কোথায় সেই ‘ফেসবুক লাইভে’ ঢল, কোথায় সেই স্ট্যাটাস যুদ্ধ? বিশেষত, বাম ছাত্র-যুব সংগঠনের তরফে প্রচার কার্যক্রম এবার অনেকটাই ম্লান বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ‘ইনসাফ যাত্রা’-র সময় যেভাবে উত্তাপ ছড়িয়েছিল তরুণরা, এবার তার ছিটেফোঁটাও চোখে পড়ছে না। তখন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ছিলেন আন্দোলনের মুখ। অথচ, এবারের ব্রিগেডের মূল বক্তাদের তালিকায় তাঁর নামই নেই—এই ঘটনা যেন আশ্চর্য করে তুলেছে অনেককেই।
সিপিএমের শ্রমিক, কৃষক এবং খেতমজুর সংগঠনের ডাকে আয়োজিত এবারের ব্রিগেড সমাবেশে বক্তা হিসেবে থাকছেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, অনাদি সাহু, বন্যা টুডু, অমল হালদার সহ অন্যান্যরা। কিন্তু নজরকাড়া অনুপস্থিতি মীনাক্ষীর। যিনি সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন, তাঁকে এবার মঞ্চে রাখা হয়নি। দলের একাংশের মতে, এই ব্রিগেড যেহেতু গণসংগঠনের, তাই যুবনেত্রীর উপস্থিতি আবশ্যক নয়। তবে ভিন্নমতও রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, মীনাক্ষীর মতো তরুণ মুখ ছাড়া বাম রাজনীতির নবজাগরণ সম্ভব নয়।
এই নিয়েই চলছে জোর আলোচনা। ইতিমধ্যেই দলীয় তরফে তাঁকে দিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে বক্তব্য রাখতে বলা হয়েছে, যাতে কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ বজায় থাকে। অনেকে বলছেন, শেষ মুহূর্তে যদি মনে হয়, ভিড় কম হচ্ছে, তাহলে হয়তো তাঁকে বক্তা তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে। তবে এই অনিশ্চয়তা দলের ভেতরে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে, এবং বাইরে তৈরি করেছে প্রশ্ন।
আরও পড়ুনঃ Weather update : বৃষ্টি শেষেই গরমের ছোবল! এপ্রিলেই দক্ষিণবঙ্গে ফিরে এল আবার দাবদাহ! কি বলছে আবহাওয়া দপ্তর!
ব্রিগেড মানে শুধু মিছিল নয়, সেটা হয়ে দাঁড়ায় শক্তি প্রদর্শনের প্রতীক। সেখানে মীনাক্ষীর মতো তরুণ নেত্রীর অনুপস্থিতি যে একপ্রকার বার্তা বহন করছে, তা বলাই বাহুল্য। আর এই পরিস্থিতিতে যদি দল সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে আগামীদিনে যুবদের ফিরে পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলেই আশঙ্কা রাজনৈতিক মহলের।





