Murshidabad : মুর্শিদাবাদের তাণ্ডবে ৭ মুসলিম ছাত্রীকে বাঁচিয়েছিলেন শুভ্রবাবু, আর সেই বাড়িতেই হামলা চালাল দুষ্কৃতীরা!

মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ। দিনের শুরুটা ছিল একদম অন্যরকম। যেই পাড়ায় প্রতিদিন সকাল শুরু হত বাজারের কোলাহল আর রুটি তৈরির গন্ধে, সেই পাড়ার রাস্তায় এবার ঘুরে বেড়াল আতঙ্ক। সাধারণ মানুষ তখনও বুঝে উঠতে পারেনি সামনে কী অপেক্ষা করছে। কেউ ভাবতেও পারেনি, যে এলাকা এতটা শান্ত ছিল, সেখানে এমন হিংসার রূপ দেখতে হবে।

একদিকে যখন খবর ছড়াচ্ছে দুষ্কৃতীদের দাপটের, অন্যদিকে কিছু পরিবার তখন খুঁজে চলেছে তাদের বাচ্চাদের। ছোট ছোট স্কুলপড়ুয়া মেয়েরা, যাদের হাতে থাকার কথা খাতা-কলম, তাদের চোখে জল, গায়ে ধুলো আর মনে ভয়। সেই মুহূর্তে একজন মানুষ সামনে এলেন, যিনি তাঁদের জন্য হয়ে উঠলেন রক্ষাকর্তা। কিন্তু এই ভালো কাজই কি পরে কাল হল তাঁর নিজের জীবনে?

পেশায় ব্যবসায়ী শুভ্র সাহা ছিলেন সেই মানুষ, যিনি সাতজন মুসলিম স্কুলছাত্রীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। ধুলিয়ান-ঘোষপাড়া রোডের ধারে তাঁর বাড়ির উল্টোদিকেই কাঁদছিল ওই বাচ্চাগুলি। এলাকার উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যখন চারপাশে দুষ্কৃতীরা অস্ত্র হাতে ঘোরাফেরা করছে, তখন শুভ্র সাহা তাঁদের নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন, সান্ত্বনা দেন। কিন্তু এরপরই শুরু হয় তাঁর বাড়ির উপর তাণ্ডব। জানালার কাচ ভেঙে চুরমার, ছোড়া হয় একের পর এক ইট। তাঁর স্ত্রী, কন্যা ও পুত্র চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েন। সেই সময় কিছু দুষ্কৃতী তাঁকে তলোয়ার দেখিয়ে মারতে আসে, বলে “আজ তোকে কাটব।”

শুভ্র সাহা জানান, ওই মেয়েগুলিকে দেখে প্রথমে দুষ্কৃতীরা থেমে যায় এবং বলে “চাচা আপনি ভালো কাজ করেছেন।” কিন্তু সেই মুহূর্তিক প্রশংসাই টিকল না বেশিক্ষণ। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই আরেক দল ফিরে আসে এবং শুভ্রবাবুর বাড়ির সামনের অংশে আগুন লাগিয়ে দেয়, শুরু করে বেপরোয়া ভাঙচুর। জানালা, দরজা সব গুঁড়িয়ে যায়। শুভ্রবাবুর পরিবারের সেই মুহূর্তে আতঙ্কে একপ্রকার জ্ঞান হারানোর অবস্থা।

আরও পড়ুনঃ Minakshi Mukherjee : তালিকায় মীনাক্ষী নেই কেন? ব্রিগেড নিয়ে বিভাজন বাম শিবিরে, মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ‘তরুণ তুর্কি’রা!

যে সাতজন মেয়েকে বাঁচানো হল, তাঁদের এক অভিভাবক বলেন, “আমার মেয়ে আটকে পড়েছিল। শুনি শুভ্রদার বাড়িতে আছে। ওঁর জন্যই আমার মেয়ে আজ সুস্থ। কিন্তু যেভাবে ওঁর বাড়ি ভাঙল সেটা একদম উচিত হয়নি।” শুভ্র সাহা বলেন, “মানুষ এখন আর মানুষের জন্য নেই। কিছু মানুষ পশুর থেকেও খারাপ হয়েছে।” এই ঘটনায় একদিকে যেমন শুভ্র সাহার সাহসিকতা প্রশংসনীয়, তেমনই প্রশ্ন তুলছে সমাজের সেই অংশ নিয়ে, যারা ভালো কাজকেও রেহাই দেয় না। শেষ পর্যন্ত, মানবিকতার মূল্য দিতে হল বড় ক্ষতি দিয়ে — কেবল একটি ভালো কাজ করার অপরাধে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles