সামনেই বিধানসভা ভোট তার আগে কোথায় দলের নেতা-মন্ত্রীরা কোথায় এক সঙ্গে লড়বেন তা না করে দলের বিরুদ্ধেই লড়তে নেমে পড়েছেন।
আর এতেই মহাফ্যাসাদে পড়েছে শাসকদল তৃণমূল। বিপুল হারে লোক দল ছাড়ছে, তো কোথাও প্রভাবশালী নেতা দল ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে, পারস্পরিক বিরোধ দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ঝামেলা অন্তর্দ্বন্দ্বে এখন জেরবার ঘাসফুল শিবির।
বঙ্গ রাজনীতি থেকে সদ্যই মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বর্তমানে তৃণমূল-শুভেন্দু সম্পর্ক একেবারে শেষের দোরগোড়ায় গিয়ে পৌঁছেছে। মন্ত্রিত্ব সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ ছেড়ে দেওয়ার পর শুভেন্দু তৃণমূলে থাকার সম্ভাবনা এখন অত্যন্ত ক্ষীণ। নিজের দল গড়বেন না বিজেপিতে যাবেন? কোন পথে শুভেন্দু এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
আর বাংলার এই বিদ্রোহ ও দলবদলের রাজনীতিতে এবার নতুন নাম সংযোজিত হলো রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়-এর। দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন বনমন্ত্রী।
তৃণমূলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই এর পরীক্ষা যত এগিয়ে আসছে দলে বিদ্রোহীর সংখ্যাও তত বাড়ছে।
আর এতে লাভ হচ্ছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির। ইতিমধ্যেই পদ্ম শিবিরে নাম লিখিয়েছেন বিধায়ক মিহির গোস্বামী । শীলভদ্র দত্ত, অতীন ঘোষ সকলের গলাতেই নিজেও দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভের সুর। আর এবার বেসুরোদের তালিকায় নাম লেখালেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে টালিগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দলে যারা স্তাবকতা করে তাদের নম্বর বেশি। আমি পারি না বলে আমার নম্বর কম।” আর তাঁর এই মন্তব্যের পরই গুঞ্জনের ঝড় ওঠে বঙ্গ রাজনীতিতে। তাহলে কি রাজীবও এবার শুভেন্দুর পথে?
নিজের বক্তব্যে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, “শুভেন্দু অধিকারী চলে গেলে দলে বিশাল শূন্যতা তৈরি হবে।” এ বিষয়ে দলীয় নেতৃত্বকে আত্মসমীক্ষার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “নেতাদের এত কেনও ক্ষোভ-বিক্ষোভ অনুসন্ধান জরুরি। এসব আরও আগে ভাবা উচিত ছিল।”
আক্ষেপের সুর ঝরিয়ে বন মন্ত্রী বলেন, “যাঁরা মাঠেঘাটে কাজ করে, তারা প্রাধান্য পায় না। ক্ষমতালোভীরা জায়গা পাচ্ছে দলে। ভালোকে খারাপ, খারাপকে ভালো বললেই মুশকিল।”
আর স্বভাবতই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই হঠাৎ বেসুরে গান অস্বস্তি বাড়িয়েছে তৃণমূল নেতৃত্বের। মুখ খুলেছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, “রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রী হিসাবে ভাল কাজ করছেন। ও ভাল ছেলে। আমাদের ছোট ভাইয়ের মতো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন আছেন মাথার উপর, তখন চিন্তার কোনও কারণ নেই। তিনি সব দেখছেন। সকলের জন্য ভাল করবেন।”
তবে যখন একের পর এক বিদ্রোহে যখন জেরবার শাসক শিবির, তখন আড়াল থেকে হাসছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি।





