গতকাল, মঙ্গলবার নদিয়ার বগুলাতে বিজেপির এক প্রকাশ্য জনসভায় রাজ্যের শাসক দলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান বিজেপি তারকা নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। এদিন নাম না করেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করেন তিনি। দুর্নীতি-কাটমানি প্রসঙ্গে একহাত নেন তৃণমূলকে।
এদিন রাজ্য বিজেপির হয়ে গ্রামে গ্রামে বেশ কয়েকটি জনসভা করেন মিঠুন চক্রবর্তী। এক জনসভা থেকে তিনি বলেন, “আমি জীবনে বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে অনেক সম্পত্তি উপার্জন করেছি। এটা আমার খাটনির টাকা, চুরির টাকা নয়। আর কত খাবেন এবার তো বমি হবে। জেনে রাখুন আদিবাসী এলাকায় বা প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনাতে সাড়ে ১২ হাজার টাকা করে বাথরুমের জন্য বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর তো দূরের কথা বাথরুম পর্যন্ত উড়িয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছে তৃণমূলের নেতারা। এখন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় কাটমানির লাইন দিয়েছে তৃণমূলের নেতারা, এতো দেখছি যমের রাজত্ব চলছে”।
পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপিই ক্ষমতায় আসবে, এই বিষয়ে আত্মবিশ্বাসের সুরে দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্বুদ্ধ করে বিজেপি নেতা বলেন, “আমরা এমন একটা দল আমরা যদি পঞ্চায়েতে ক্ষমতায় আসি তাহলে সবকটা কাচা বাড়ি পাকা হবে। আর প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা দিয়েই হবে। বিশ্বাসঘাতকদের বিশ্বাস করবেন না। লোকসভা তো দূরে থাক পঞ্চায়েতে এবার আমরা ক্ষমতায় আসব”। এদিন মিঠুনের এই জনসভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ জগন্নাথ সরকার ও রাজ্য ও জেলা বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব।
এদিনের এই জনসভা থেকে নাম না করেই ‘দিদির দূত’ কর্মসূচি নিয়ে খোঁচা দেন মহাগুরু। বলেন, “গণ্ডগোল আছে বলে যেখানে যাচ্ছে সেখানেই বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে। বলে আমি কিছু বুঝি না। বেশি না বোঝাই ভালো। বেশি বুঝলেই চুরি করতে হবে”।
শুধু তাই-ই নয়, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের কাছে পৌঁছনোর বার্তাও দেন এদিন তিনি। জনতার উদ্দেশে মিঠুন বলেন, “জাতি-ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে বিজেপিকে ভোট দিকে হবে। তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম সবার নিচুতলার কর্মীদের কাছে আবেদন রইল। এই পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপিকে জেতাতে হবে। বিজেপি জিতলে সব কাঁচা বাড়ি পাকা হবে। আর মিঠুন চক্রবর্তী চেয়ার নিয়ে বসে সকলের নাম লিখবে”।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার