গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভ্যাপসা গরমে কার্যত নাজেহাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাস্তাঘাটে মানুষের ভিড় কমেছে, দুপুরের দিকে ফাঁকা থাকছে বাজার কিংবা যানবাহন। ঘরের বাইরে পা রাখা দায়, কারণ একদিকে জ্বালা ধরানো রোদ, অন্যদিকে আর্দ্রতার প্রকোপ। এই প্রাক বর্ষা সময়েও গরমের এমন দাপটে নাকাল দক্ষিণবঙ্গবাসী। তবে জুনের মাঝামাঝি এসে মিলতে পারে স্বস্তি, এমনই ইঙ্গিত মিলেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তরফে।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৭-১৮ জুনের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গে ঢুকে পড়তে পারে মৌসুমী বায়ু। এর ফলে বহু প্রতীক্ষিত বর্ষার বৃষ্টি শুরু হতে পারে গোটা দক্ষিণবঙ্গে। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। আজ, ১৬ জুন, সপ্তাহের প্রথম দিনেই দুই ২৪ পরগনা এবং দুই মেদিনীপুর জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সোমবার বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে কলকাতাতেও। তবে মঙ্গলবার ও বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সমস্ত জেলাতেই বৃষ্টি দেখা যেতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় কৃষিকাজ ও জনজীবনে তার প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি কিছু জেলায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। অর্থাৎ এবারে দক্ষিণবঙ্গবাসী প্রস্তুত থাকুন একটানা কয়েকদিনের বর্ষণ উপভোগ করতে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষার এই আগমনের ফলে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কিছুটা হলেও কমবে। গরমের তীব্রতা যেমন কমবে, তেমনি আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিও খানিক প্রশমিত হবে। আবারও সক্রিয় হতে চলেছে বর্ষা, যা সাধারণ মানুষের কাছে এক বড় স্বস্তির খবর।
আরও পড়ুনঃ Kolkata Fire: খিদিরপুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, আগুনে ভস্মীভূত শতাধিক দোকান
ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে গিয়েছে। দার্জিলিং ও কালিম্পঙের মতো পার্বত্য জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে আজও। পাশাপাশি জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। অর্থাৎ, রাজ্যের দুই অংশেই আগামী কিছুদিন ধরে বৃষ্টির ছোঁয়া থাকছে, যা দক্ষিণবঙ্গের জন্য নিয়ে আসবে বহু প্রতীক্ষিত স্বস্তি।






