পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। এখন বাড়িতে আনন্দ উৎসব হওয়ার কথা। কিন্তু সেই বাড়িই এখন ঢেকে গেল বিষণ্ণতায়। যিনি জন্ম দিলেন, সেই জন্মদাত্রীই যে নেই। মায়ের স্নেহ-ভালোবাসা আদতে কী হয়, তা বুঝেই উঠতে পারল না সদ্যোজাত। সন্তান জন্ম দিয়েই মৃত্যু হল মহিলার।
এমন এক ঘটনায় কার্যত তুমুল উত্তেজনা এই মুহূর্তে নবদ্বীপে। সিজার করার সময়ই চিকিৎসকদের ভুলের জেরেই ওই মহিলার কোনও অঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ মহিলার পরিবারের। আর তার জেরেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জারি করা হয়েছে।
কী ঘটেছে গোটা ঘটনাটি?
নবদ্বীপের মতিরায়বাঁধ এলাকায় বাসিন্দা দীপা মিশ্র। জানা গিয়েছে, গত ১ অক্টোবর সন্তান প্রসবের জন্য ওই মহিলাকে স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সব ঠিকই ছিল। সিজারের মাধ্যমে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন মহিলা। কিন্তু এরপর থেকেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে ওই মহিলার। অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় মহিলাকে তাঁর পরিবারের লোকজন অন্য একটি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করেন। সেখানে মৃত্যু হয় তাঁর।
কীভাবে মৃত্যু হল মহিলার?
যে নার্সিং হোমে পরে মহিলাকে স্থানান্তরিত করা হয়, সেই নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষ পরিবারকে জানায় যে সিজারের সময় চিকিৎসকদের অসাবধানতার জেরেই হয়ত মহিলার কোনও অঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে। এর জেরে শরীরের ভিতর রক্তক্ষরণ শুরু হয় তাঁর। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই মৃত্যু হয়েছে মহিলার। একথা জানার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে তাঁর পরিবারের। তাদের দাবী, যে নার্সিং হোমে ওই মহিলা সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন, সেই নার্সিং হোমের চিকিৎসকদের ভুলেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নার্সিং হোমের সামনেই মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ দেখায় দীপার পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নবদ্বীপ থানার পুলিশ। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এই ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে মৃতার পরিবারকে। অভিযুক্ত নার্সিং হোমের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবী তোলা হয়েছে। এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষ।





