৯ তারিখ। এই তারিখটা এক অসহায় মা-বাবার জন্য যে বড় ভয়ানক। কারণ এই এক ৯ তারিখেই তাদের বাড়ির উমা বিসর্জন নিয়েছে চিরতরে। শত মাথা খুঁড়লেও আর তাঁকে ফেরানো সম্ভব নয়। ঠিক ২ মাস আগেই মেয়েকে হারিয়েছেন তিলোত্তমার মা-বাবা। এবার দুর্গাষষ্ঠীতে তাই বাংলার মায়েদের উদ্দেশে বিশেষ আর্জি জানালেন আর জি করের নির্যাতিতার মা।
আজ, বুধবার অর্থাৎ ষষ্ঠী থেকেই নিজেদের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেছেন আর জি করের নির্যাতিতার মা-বাবা ও আত্মীয়স্বজন। মেয়ের স্মৃতি আগলে দশমী পর্যন্ত ধর্নায় তারা। তিলোত্তমার মা-বাবা জানিয়েছিলেন, যে কেউই এই মঞ্চে আসতে পারেন। তবে এই ধর্নামঞ্চে রাজনৈতিক রঙ লাগাতে চান নি তারা।
তবে তাও ডিওয়াইএফআই নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে দেখা যায় তিলোত্তমার মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে তাদের বাড়ি গিয়েছেন তিনি। সেখানে সকলের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তিনি আবেদন জানান, যারা পুজোয় বেরবেন, তারা যেন একটিবারের জন্য এই মঞ্চের সামনে ও ধর্মতলায় জুনিয়র চিকিৎসকদের ধর্নামঞ্চে ঘুরে যান।
মেয়ে হারানোর শোকে বিহ্বল তিলোত্তমার মা-বাবা। তাদের বাড়িতেও হত দুর্গাপুজো। কিন্তু আজ সেই বাড়ি অন্ধকার। মা দুর্গা যে স্বয়ং বিদায় নিয়েছেন সেই বাড়ি থেকে। তবে বাংলার সব মায়েদের উদ্দেশে তিলোত্তমার মা আবেদন জানিয়েছেন যাতে সন্তানের মঙ্গলের জন্য তারা ৯টি প্রদীপ জ্বালান। তিনি এও জানান, অনশনকারী জুনিয়র চিকিৎসকদের জন্য তিনি ষষ্ঠীব্রত পালন করছেন।
আরও পড়ুনঃ জুনিয়র চিকিৎসকদের ‘অভয়া পরিক্রমা’য় পুলিশের বাধা, আটকানো হল চিকিৎসকদের ম্যাটাডোর, ষষ্ঠীর বিকেলে উত্তেজনা কলকাতার রাস্তায়
তিলোত্তমার মা জানান, “এমনই একটা ৯ তারিখ আমার জীবনটা ওলট-পালট হয়ে গেল। আমাদের বাড়িতে ষষ্ঠী পুজো হতো। আমার মেয়ে আমি উপোস করতাম। আজও আমি উপোস রয়েছে। আমার একটা মেয়ে চলে গিয়েছে। হাজার হাজার ছেলে মেয়ের রাস্তায় অনশন করছে। আজ ৯ তারখি। রাত ৯টায় নিজের সন্তানের মঙ্গল কামনায় ৯টা প্রদীপ জ্বালুন”।





