মুকুল রায়কে নিয়ে চিন্তার ভাঁজ কিছুতেই সরছে না বিজেপির কপাল থেকে। প্রকাশ্যেই তিনি তৃণমূলে ফিরে গিয়েছেন। কিন্তু এদিকে নথি অনুযায়ী তিনি কিন্তু এখনও বিজেপির বিধায়ক। দল ছাড়ার সময়ও সেকথা তিনি বিজেপিকে জানান নি বা নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেননি।
এমন এক পরিস্থিতিতে বিরোধী বেঞ্চেই বসতে হতে পারে তাঁকে। অর্থাৎ বিধানসভায় তিনি বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে একই বেঞ্চে বসবেন ও সওয়াল করবেন শাসকদলের হয়ে। এমন ঘটনা যদি ঘটে তা যে বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসে শুধু নজির গড়বে তাই-ই নয়, এমন একটি ঘটনা বিধানসভায় হাসির রোলও উঠবে।
আরও পড়ুন- বাড়ল বাস ভাড়া, এবার থেকে বাসে উঠলেই দিতে হবে দশ টাকা! দেখে নিন নতুন ভাড়ার তালিকা
বিধানসভার অন্দরে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, সরকার পক্ষের দিকে যদি মুকুল বসেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে বিরোধীদের তোলা দলত্যাগের অভিযোগকেই সমর্থন করা হবে। কিন্তু মুকুল বিরোধী বেঞ্চে বসলে তা আর হবে না। এর জেরে বেশ বিপত্তিতে পড়েছে বিজেপি। কিন্তু সমস্যা হল অনেকেই মুকুলের সঙ্গে আসন ভাগ করে নিতে চায় না। তাছাড়া, বিরোধী বেঞ্চে বসে মুকুল যদি তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন, তাহলে তা দেখতেও দৃষ্টিকটু দেখাবে।
তবে মুকুল রায়ের এই অবস্থানের নেপথ্যে আরও একটি কারণ হল তিনি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্য। সব ঠিকঠাক থাকলে, তিনি ওই কমিটিরই চেয়ারম্যান হতে পারেন। কারণ নীতি অনুযায়ী, এই পদ পেয়ে থাকেন বিরোধী দলেরই কোনও বিধায়ক। এমনটা হলে, বিধানসভার অন্দরে মুকুল বিরোধী শিবিরেই থাকল, ফলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
আরও পড়ুন- আরও কঠোর বিজেপির আইনশৃঙ্খলা কমিটি, এবার নজরদারি চলবে দলের কর্মীদের ফেসবুকে, জারি নয়া ফতোয়া
তবে মুকুল রায়ের সদস্যপদ যাতে খারিজ করা হয়, এর জন্য ইতিমধ্যেই বিজেপির তরফে বিধানসভায় আবেদন জানানো হয়েছে। এদিকে সিনিয়র নেতা হিসেবে মুকুল রায়ের আসন পেতে পারেন শুভেন্দু অধিকারী বা মনোজ টিগ্গা। তবে এক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার দেখার পালা কোথাকার জল কতদূর গড়ায়।





